আপিল বিভাগের রায়

২৫ বছর পূরণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে পাবে না পেনশন সুবিধা

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪৬ পিএম


২৫ বছর পূরণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে পাবে না পেনশন সুবিধা
ছবি: সংগৃহীত

চাকরিতে ২৫ বছরের সময়কাল পূর্ণ করার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন সুবিধা প্রাপ্য হবেন না বলে এক রায়ে উল্লেখ করেছেন আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার ভিত্তিতে এমন বিধান করেছে যে ২৫ বছরের চাকরির সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।

হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে গত ১১ মার্চ ওই রায় দেন বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৯ জুলাই প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, সহকারী বিচারক হিসেবে ১৯৯১ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন মাহবুব মোরশেদ। সার্ভিসের ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি মাহবুব মোরশেদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দেন, তখন তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ। সার্ভিসের ১৯ বছর হিসাবে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক মঞ্জুরের জন্য ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

আরও পড়ুন

এর ধারাবাহিকতায় প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে আগের চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত (যত দিন চাকরিতে ছিলেন) হবে। অর্থাৎ পেনশনের জন্য তা গণনাযোগ্য হবে না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। পেনশনারের (মাহবুব মোরশেদ) চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি। তিনি ২৫ বছর পূর্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি বলে পেনশনপ্রাপ্ত নন (১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা)।

এ অবস্থায় বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জে করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ রায় দেন। রায়ে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের ওই চিঠি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধা গণনা ও মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চলমান রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের করা ওই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে গত ১১ মার্চ ওই রায় দেন আপিল বিভাগ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক শুনানিতে ছিলেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. মাহবুব মোরশেদ নিজেই শুনানি করেন।

মাহবুব মোরশেদ বলেন, রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission