রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি ফ্ল্যাটে নারী হত্যার ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি ও চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারসহ ফারুক (২৭) নামে এক নির্মাণশ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া রসুলপুর নগর ভবনসংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে শাহিদা আক্তার নামে এক নারীকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার, ইমিটেশন গহনা এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পারভীন আক্তার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে নির্মাণশ্রমিক ফারুককে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আসামির দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এক হাতলবিশিষ্ট কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এক জোড়া ইমিটেশনের বালা, তিনটি গলার হার, এক জোড়া পায়ের নূপুর এবং কিছু বিদেশি কাগুজে ও ধাতব মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ফারুক নিহতের পরিবারের পাশের ফ্ল্যাটে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সুবাদে তিনি বাসার পরিবেশ ও পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ঘটনার দিন সুযোগ বুঝে তিনি বাসায় প্রবেশ করে ধারালো কাঁচি দিয়ে শাহিদা আক্তারকে হত্যা করেন। পরে আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, ইমিটেশন গহনা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরটিভি/এসকে




