ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন ‘বোন গ্লু’তে মাত্র ৩ মিনিটে ভাঙা হাড় জোড়া লাগবে 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে চীনা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এক বিশেষ ‘বোন গ্লু’ বা হাড়ের আঠা। গবেষকদের দাবি, এই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যেই ভাঙা হাড় দৃঢ়ভাবে জোড়া লাগানো সম্ভব।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের একদল গবেষক বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোন-০২’ নামের এই নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন করেন। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন স্যার রান রান শো হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী প্রধান সার্জন লিন শিয়েনফেং।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বোন গ্লুর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে শোষিত হয়ে যায়। ফলে প্রচলিত ধাতব প্লেট, স্ক্রু বা ইমপ্ল্যান্টের মতো দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে এটি অপসারণ করতে হয় না।

গবেষক লিন শিয়েনফেং জানান, পানির নিচে সেতুর গায়ে ঝিনুক যেভাবে শক্তভাবে লেগে থাকতে পারে, সেই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য থেকেই তিনি এই হাড়ের আঠা তৈরির অনুপ্রেরণা পান।

তার দাবি, রক্তময় পরিবেশেও এই আঠা মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে হাড়কে দৃঢ়ভাবে আটকে দিতে সক্ষম।

গবেষকদের মতে, পরীক্ষাগারে ‘বোন-০২’ নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার বিভিন্ন মানদণ্ডে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেখানে প্রচলিত চিকিৎসায় বড় ছিদ্র করে স্টিলের প্লেট ও স্ক্রু বসাতে হয়, সেখানে এই নতুন বোন গ্লু ব্যবহার করে পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র ১৮০ সেকেন্ডে সম্পন্ন করা সম্ভব।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১৫০ জনের বেশি রোগীর ওপর এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই বোন গ্লু সর্বোচ্চ ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে। পাশ থেকে চাপ পড়লে এটি প্রায় ৫ লাখ প্যাসকাল (০.৫ মেগা প্যাসকাল শেয়ার স্ট্রেন্থ) পর্যন্ত ভাঙে না। অন্যদিকে, ওপর থেকে চাপের ক্ষেত্রে এটি ১ কোটি প্যাসকাল (১০ মেগা প্যাসকাল কমপ্রেসিভ স্ট্রেন্থ) পর্যন্ত সহনশীল।

এ কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এটি ধাতব ইমপ্ল্যান্টের কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি এটি সংক্রমণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বোন সিমেন্ট ও বোন ভয়েড ফিলার থাকলেও, সেগুলোর কোনোটিই কার্যকর আঠালো বৈশিষ্ট্য দাবি করে না।

গবেষকরা জানান, ১৯৪০-এর দশকে প্রথম দিকের যেসব হাড়ের আঠা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো ছিল জেলাটিন, ইপোক্সি রেজিন ও অ্যাক্রিলেটভিত্তিক। তবে জৈব-সামঞ্জস্যতার অভাবে সেগুলো মানবদেহে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত ছিল না।

নতুন উদ্ভাবিত ‘বোন-০২’ সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে হাড় জোড়া লাগানোর চিকিৎসায় দ্রুত, কম ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতা কমানো একটি আধুনিক সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি