দেশজুড়ে তীব্র গরমে নাজেহাল জনজীবন। টানা তাপপ্রবাহের কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর দিয়েছে সতর্কতা। বড়দের মতো শিশু ও নবজাতকরাও এই গরমে চরম কষ্টে থাকে। তবে তারা তা প্রকাশ করতে পারে না। ফলে তাদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
শিশু ও নবজাতকদের বাড়ছে রোগবালাই
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, চর্মরোগসহ নানা অসুখ বেড়ে যায়। গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়া এবং জীবাণুর সংক্রমণ বাড়ার কারণেই এসব রোগ বেশি দেখা দেয়। এছাড়া ঘাম বেশি হওয়ায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও থাকে।
রোদ থেকে দূরে রাখা জরুরি
তীব্র রোদ শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে বাইরে না নেওয়াই ভালো। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার ও শরীর ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নবজাতকদের সরাসরি রোদে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়।
পানিশূন্যতা রোধে করণীয়
গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তরল খাবারের বিকল্প নেই। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের শুধু মায়ের দুধই যথেষ্ট। আর বড় শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদ পানি, ফলের রস ও পানি জাতীয় খাবার বেশি দিতে হবে। এতে শরীর পানিশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
খাবারে রাখতে হবে সতর্কতা
এই সময় শিশুদের বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। বাসার তাজা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন দুধ, ডিম, ফল ও সবজি খাওয়াতে হবে। একঘেয়েমি কাটাতে খাবারে বৈচিত্র আনলে শিশুরা আগ্রহ নিয়ে খেতে পারে।
ঘর রাখতে হবে আরামদায়ক
গরমে শিশুর ঘর ঠাণ্ডা রাখা খুব জরুরি। দিনের বেলায় জানালা বন্ধ রেখে সন্ধ্যায় খুলে দিতে হবে। ভেজা কাপড় বা পানিভর্তি পাত্র ঘরে রাখলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে। এতে শিশু স্বস্তিতে ঘুমাতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি
শিশুকে নিয়মিত গোসল করানো এবং পরিষ্কার রাখা খুব জরুরী। ঘাম হলে তা দ্রুত মুছে দিতে হবে। ধুলাবালি থেকে দূরে রাখলে অনেক রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
পোশাকে থাকতে হবে স্বস্তি
গরমে শিশুদের ঢিলেঢালা, পাতলা ও সুতি কাপড় পরানো উচিত। এতে ঘামাচি ও অস্বস্তি কমে। নবজাতকদের বেশি কাপড়ে মুড়িয়ে না রেখে হালকা পোশাক পরানোই ভালো।
তাই তীব্র গরমে শিশুদের যত্নে সামান্য অবহেলাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
আরটিভি/জেএমএ




