হাঁটতে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু সিঁড়িতে উঠতে গেলেই হাঁটুতে অনেক সময় ব্যথা শুরু হয়—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। বিশেষ করে উঠানামার সময় তীব্র ব্যথা, মটমট শব্দ বা হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগার মতো অনুভূতি দেখা যায়। কেন এমন হয়? বিষয়টি শুধু বাতের রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সুস্থ মানুষও এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, হাঁটু অনেকটা দরজার কবজার মতো কাজ করে। এই কবজার মধ্যে থাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—উরুর হাড়, পায়ের নিচের হাড় এবং মধ্যখানে নরম তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ। এই কার্টিলেজ হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ কমায়।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই নরম অংশ ক্ষয়ে যেতে থাকে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং ব্যথা তৈরি হয়। সিঁড়িতে উঠার সময় হাঁটুতে চাপ অনেক বেশি পড়ে। তাই তখন এই ঘর্ষণও বেড়ে যায়। ফলে তখনই তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়।
এছাড়া হাঁটুর সামনে ছোট চাকতির মতো একটি হাড় থাকে, যাকে মালাইচাকি বলা হয়। এটি পেশি ও লিগামেন্টকে ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এই অংশ দুর্বল হয়ে গেলে বা সঠিকভাবে না চললে হাঁটুতে চাপ বেড়ে যায় এবং ব্যথা বাড়ে। বিশেষ করে সিঁড়ি ওঠানামার সময় এই সমস্যা বেশি ধরা পড়ে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
এই সমস্যায় বেশি ভোগেন কমবয়সি নারী ও খেলোয়াড়রা। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, হঠাৎ ভারী কাজ করা বা ব্যায়ামের সময় চোট লাগা—এসব কারণে হাঁটুর নরম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত হাড় ক্ষয়, হাঁটু ফুলে যাওয়া বা পেশি দুর্বল হয়ে পড়াও বড় কারণ।
এছাড়া সমতল পায়ের পাতা এবং অতিরিক্ত ওজনও হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। ফলে ধীরে ধীরে ক্ষয় বাড়ে এবং ব্যথা তীব্র হয়।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এবং হাঁটুতে অযথা চাপ না দেওয়াই সবচেয়ে জরুরী। ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তাই হাঁটতে স্বাভাবিক লাগলেও, সিঁড়িতে উঠার সময় যদি হাঁটুতে ব্যথা হয়—তাকে অবহেলা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরটিভি/জেএমএ




