ঘরের ভেতরের বাতাসই কি সবচেয়ে নিরাপদ? নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। আমাদের ঘরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা প্রতিদিন নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা বছরে লক্ষ থেকে কোটি পর্যন্ত এমন ক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারি। এই কণাগুলোর বড় উৎস আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস—বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তুর কাপড় (পলিয়েস্টার, নাইলন, অ্যাক্রিলিকের কাপড়), আসবাব, পর্দা ও কার্পেট।
যখন আমরা কাপড় পরি, ধুই বা শুকাই, তখন সেগুলো থেকে অসংখ্য সূক্ষ্ম তন্তু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ঘরের ধুলার মধ্যেও এই কণাগুলো জমে থাকে। একটু নড়াচড়া বা পরিষ্কারের সময় এগুলো আবার বাতাসে ভেসে ওঠে এবং সহজেই আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের ভেতরের বাতাসে এই কণার পরিমাণ বাইরের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ আমরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরেই কাটাই। ফলে অজান্তেই ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তবে এই ঝুঁকি কমানোর কিছু সহজ উপায়ও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনে বারবার কাপড় না ধোয়া, সম্ভব হলে বাইরে শুকানো এবং প্রাকৃতিক তন্তুর কাপড় ব্যবহার করা উপকারী।
ঘর পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলে ধুলা কম উড়ে। ঝাড়ু বা পরিষ্কার করার সময় জানালা খুলে রাখা ভালো, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
এছাড়া নিয়মিত ঘর পরিষ্কার ও সঠিকভাবে যন্ত্র ব্যবহার করলে এই কণার পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ক্ষুদ্র কণাগুলো ফুসফুসে জমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীরে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে এ নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান।
পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও সচেতনতা আর ছোট কিছু অভ্যাস বদলেই কমানো যেতে পারে এই অদৃশ্য ঝুঁকি।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



