ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরলে কী করবেন 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

গভীর ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ জেগে ওঠেন অনেকে। চোখ খোলা, চারপাশ দেখা যায়, কিন্তু শরীর যেন আর নড়ে না। মনে হয় বুকের ওপর ভারী কিছু চেপে বসে আছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতায় পড়েছেন অনেকেই। কয়েক সেকেন্ডের এই ঘটনাই অনেক সময় মনে হয় যেন দীর্ঘ সময়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এই ঘটনাকেই সাধারণভাবে বলা হয় বোবায় ধরা।

আসলে কী এই বোবায় ধরা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থার নাম ঘুমজনিত পক্ষাঘাত। এটি ঘুম ও জেগে ওঠার মাঝামাঝি এক স্নায়বিক অবস্থা। এই সময় মস্তিষ্ক কিছুটা জেগে গেলেও শরীরের পেশি সাময়িকভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের এক পর্যায়ে মস্তিষ্ক খুব সক্রিয় থাকে এবং মানুষ স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শরীর তখন প্রাকৃতিকভাবে স্থির থাকে। সেই অবস্থাতেই যদি হঠাৎ জেগে যাওয়া হয়, তখন শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সাময়িক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়।

কেন হয় এই সমস্যা

গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে এর কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে—

  • অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুম
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হওয়া
  • ধূমপান বা নেশাজাতীয় অভ্যাস
  • কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
  • পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি
আরও পড়ুন

কী কী লক্ষণ দেখা যায়

এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত—

  • বুকের ওপর চাপ অনুভব করেন
  • কথা বলতে বা নড়াচড়া করতে পারেন না
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
  • ভয় ও আতঙ্ক অনুভব করেন
  • অনেক সময় অদৃশ্য উপস্থিতি টের পান বলে মনে হয়
  • কিছু সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়

কীভাবে কমাবেন এই সমস্যা

বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেন—

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো ও জাগা
  • ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা
  • ঘুমের আগে ভারী খাবার ও উত্তেজক পানীয় এড়িয়ে চলা
  • ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখা
  • মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি বারবার এই সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন হলে কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

বোবায় ধরা ভয়ংকর মনে হলেও এটি আসলে মারাত্মক কোনো রোগ নয়। ঘুমের অনিয়ম ও মানসিক চাপই এর প্রধান কারণ। তাই নিয়মিত ঘুম ও জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনলেই অনেকাংশে এই সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?