কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে ১৮ বছরের গবেষণায় ভয়ংকর সতর্ক বার্তা!

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ০৯:৫৭ এএম


কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে ১৮ বছরের গবেষণায় ভয়ংকর সতর্ক বার্তা!
কাজিনদের মধ্যে বিয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি । ছবি: সংগৃহীত

ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকুক—এই ভাবনা থেকে চাচাতো, খালাতো বা মামাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ের প্রচলন বহু সমাজেই রয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৮ বছরের একটি গবেষণা বলছে, এমন বিয়ের ফলে ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে পরিচালিত ‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৩ হাজারের বেশি শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষকরা দেখেছেন, রক্তসম্পর্কিত বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগের ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে বংশগত রোগের ঝুঁকি প্রায় ৩ শতাংশ হলেও চাচাতো বা খালাতো ভাইবোনের বিয়ের ক্ষেত্রে তা বেড়ে প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছায়। শুধু তাই নয়, এসব শিশুর মধ্যে কথা বলতে শেখায় দেরি, ভাষাগত সমস্যা, বিকাশজনিত ঘাটতি এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক জন রাইট এবং গবেষক নীল স্মল জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই পরিবারের মধ্যে বিয়ে চলতে থাকলে কিছু ত্রুটিপূর্ণ জিন একত্রিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি কিংবা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ শুধু চাচাতো বা খালাতো বিয়ে নয়, বরং একই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে হওয়ার প্রবণতা। এ কারণে বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নরওয়ে ইতোমধ্যে চাচাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে। সুইডেনও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পথে রয়েছে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আইন নয়, সচেতনতা ও শিক্ষা হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজিনদের মধ্যে বিয়ের হার কমছে। ২০০০ সালের দিকে যেখানে এই হার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ, বর্তমানে তা কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিয়ের আগে জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission