ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সুরভির ছোঁয়া: ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসে মেয়েদের পারফিউম

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সুগন্ধি বা পারফিউম কেবল শরীরকে সুবাসিত করার মাধ্যম নয়, বরং এটি ব্যক্তিত্বের একটি অদৃশ্য পরিধি বাড়ানো। একটি চমৎকার পারফিউম একজন নারীর উপস্থিতি যেমন জানান দেয়, তেমনি তার চলে যাওয়ার পরও বাতাসে রেখে যায় এক মায়াবী রেশ। মন ভালো করা থেকে শুরু করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়া পর্যন্ত নারীর প্রাত্যহিক জীবনে পারফিউমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

পারফিউম কেন ব্যবহার করবেন?
​মুড বা মেজাজ ভালো রাখতে: সুগন্ধির সাথে আমাদের মস্তিষ্কের এক দারুণ সংযোগ রয়েছে। ল্যাভেন্ডার, সাইট্রাস বা ভ্যানিলার মতো সুবাস নিমেষেই ক্লান্তি দূর করে মন চাঙ্গা করে তুলতে পারে।

image

​আত্মবিশ্বাস বাড়াতে: সুন্দর পোশাকের সাথে মানানসই সুগন্ধি আপনার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যখন আপনি জানেন আপনার থেকে চমৎকার সুবাস আসছে, তখন যেকোনো জায়গায় আপনি নিজেকে আরও ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

​স্মৃতির ক্যানভাস: সুগন্ধি স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। কোনো একটি নির্দিষ্ট পারফিউম আপনাকে বছরের পর বছর আগের কোনো প্রিয় মুহূর্ত বা প্রিয় মানুষের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।

সঠিক পারফিউম বেছে নেওয়ার উপায়

বাজারে হাজারো রকমের পারফিউমের মাঝে নিজের সিগনেচার সুবাসটি খুঁজে পাওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে নিচের উপায়গুলো খেয়াল রাখলে কাজটা অনেকক্ষেত্রে সহজ হবে:

ক. সুগন্ধির ধরন
​পারফিউম কেনার আগে সুবাসের ধরন বোঝা জরুরি:

ফ্লোরাল : গোলাপ, জুঁই বা রজনীগন্ধার মতো ফুলের সুবাস। এটি নারীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ক্লাসিক পছন্দ।

সাইট্রাস: লেবু, কমলা বা বার্গামটের সতেজ সুবাস। গরমের দিনের জন্য এটি দারুণ।

image

উডি বা মাস্কি: চন্দন কাঠ, অ্যাম্বার বা মাস্কের নোট। এটি সাধারণত একটু গম্ভীর, আভিজাত্যপূর্ণ এবং রাতের অনুষ্ঠানের জন্য পারফেক্ট।

ওরিয়েন্টাল বা স্পাইসি: ভ্যানিলা, দারুচিনি বা এলাচের মতো একটু কড়া ও আকর্ষণীয় সুবাস।

​খ. আবহাওয়া ও সময় বিবেচনা
​দিনের বেলা ও গরমে: হালকা, সতেজ এবং ফ্রুটি বা সাইট্রাস ঘরানার পারফিউম ব্যবহার করা ভালো। এতে গরমেও একটা ফ্রেশ অনুভূতি থাকে।

​রাতের বেলা ও শীতে: একটু কড়া, উডি, স্পাইসি বা মাস্কি পারফিউম বেছে নিন। শীতের বাতাসে এই সুবাসগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ভালো ছড়ায়।

পারফিউম দীর্ঘস্থায়ী করার কিছু দারুণ ট্রিকস

অনেকেরই অভিযোগ থাকে দামি পারফিউম ব্যবহারের পরও সুবাস বেশিক্ষণ থাকে না। পারফিউম দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন:

পালস পয়েন্টে স্প্রে করুন: কবজি, কনুইয়ের ভেতরের অংশ, ঘাড়ের দুপাশ, এবং কানের পেছনে পারফিউম স্প্রে করুন। এই স্থানগুলো শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে উষ্ণ থাকে, যা সুবাস ছড়াতে সাহায্য করে।

ঘষবেন না: কবজিতে পারফিউম দিয়ে অনেকেই হাত দুটো ঘষে নেন। এটি একদমই ভুল পদ্ধতি। ঘষার ফলে পারফিউমের মলিকিউল বা কণাগুলো ভেঙে যায়, ফলে সুবাস দ্রুত উবে যায়।

image

ময়েশ্চারাইজড ত্বক: শুষ্ক ত্বকের চেয়ে ময়েশ্চারাইজড বা তৈলাক্ত ত্বকে সুগন্ধি বেশি সময় টিকে থাকে। পারফিউম ব্যবহারের আগে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি বা গন্ধহীন লোশন লাগিয়ে নিতে পারেন

গোসলের পর: গোসল শেষ করে শরীর হালকা মুছেই পারফিউম ব্যবহার করুন। তখন ত্বকের লোমকূপগুলো খোলা থাকে, ফলে সুবাস ত্বকে ভালোভাবে বসে যায়।

পারফিউম হলো একজন নারীর অদৃশ্য অলঙ্কার। দামী বা সস্তা ব্র্যান্ডের চেয়ে বড় কথা হলো, যে সুবাসটি আপনার মনকে ভালো রাখে এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে, সেটিই আপনার জন্য সেরা। তাই নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দিন এবং প্রতিদিনের পথচলায় যোগ করুন সুরভির এক অনন্য ছোঁয়া।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়
ঘাড়ে পারফিউম স্প্রে করলে কি ক্যানসার হয়? যা বলছে বিজ্ঞান
পারফিউম ছাড়াই দূর হবে ঘামের দুর্গন্ধ