গরমের তীব্রতা থেকে স্বস্তি পেতে এখন অনেকেরই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে। অফিস, বাড়ি কিংবা গাড়ি—সব জায়গাতেই এসির ঠান্ডা বাতাস যেন স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে। তবে এই আরামই চুলের জন্য ডেকে আনতে পারে কিছু সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি সরাসরি চুল পড়ার কারণ নয়। তবে দীর্ঘ সময় এসির পরিবেশে থাকলে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এসির ঠান্ডা বাতাসে কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল?
এসি ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে পরিবেশ শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্কতার প্রভাব পড়ে মাথার ত্বকে। প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা কমে গেলে মাথার ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
এর ফলে দেখা দিতে পারে খুশকি, চুলকানি এবং মাথার ত্বকে জ্বালাভাব। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ভেঙে যেতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। এতে চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে চুল রুক্ষ, প্রাণহীন ও দুর্বল দেখায়।
কীভাবে এসির ক্ষতি থেকে চুল বাঁচাবেন?
এসির ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলেই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।
প্রথমত, শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের পাশাপাশি চুল ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় থাকে।
দ্বিতীয়ত, চুলের শুষ্কতা কমাতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চুলের হারানো আর্দ্রতা ফিরতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, সপ্তাহে কয়েকবার মাথার ত্বকে হালকা তেল দিয়ে মালিশ করা যেতে পারে। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময় একটানা এসির মধ্যে না থেকে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক পরিবেশে থাকার চেষ্টা করা উচিত। চুল ভালো রাখতে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
চুলের যত্ন শুধু দামি প্রসাধনীতে নয়, বরং সঠিক অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপরও নির্ভর করে। তাই গরমে এসির আরাম নিন, তবে চুলের প্রয়োজনীয় যত্ন নিতে ভুলবেন না।
আরটিভি/জেএমএ




