ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আজ বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া দিবস, কেন পালিত হয় এই দিন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আজ বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া দিবস, কেন পালিত হয় এই দিন? । ছবি: সংগৃহীত

ঘুম ভাঙতেই সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অফিসে কাজের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাতে ঘুমানোর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বর্তমান সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যার দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু যে মাধ্যমটি প্রতিদিন ব্যবহার করছেন, সেটির জন্যও যে একটি বিশেষ দিন রয়েছে, তা কি জানেন? আজ, ৩০ জুন, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিবস।

এই দিবসের উদ্দেশ্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা উদযাপন নয়, বরং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা, ব্যবসা এবং সামাজিক পরিবর্তনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরা।

এক সময় দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর কয়েক সেকেন্ডেই পৌঁছে যায় অন্য প্রান্তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা ব্যবসায়িক অংশীদার— সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে এই মাধ্যম।

বর্তমানে শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা, বিনোদন, জনসচেতনতা এবং সংবাদ প্রচারের অন্যতম বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তারাও এখন এই মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য ও সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এবং অনুসারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে নিয়মিত এই মাধ্যম ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন

করোনা মহামারির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লকডাউনের সময় মানুষ এই মাধ্যমেই চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, জরুরি সহায়তা, অনলাইন শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ এবং প্রিয়জনের খোঁজখবর নিয়েছেন। অনেকের জন্য এটি মানসিক সাহস ও সহযোগিতারও বড় একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।

বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর অবদান তুলে ধরতেই এই দিবস চালু করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিশ্বের প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সিক্সডিগ্রিজ চালু হয় ১৯৯৭ সালে। এটি প্রতিষ্ঠা করেন অ্যান্ড্রু ওয়েইনরিচ। অল্প সময়ের মধ্যেই এর ব্যবহারকারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়, তবুও আধুনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তি তৈরি করে দেয় এই প্ল্যাটফর্ম।

এরপর ২০০২ সালে আসে ফ্রেন্ডস্টার এবং ২০০৩ সালে চালু হয় লিংকডইন। পরে একে একে আসে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাটসহ অসংখ্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যা আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০০ থেকে ৬১২ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ থেকে ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৫৩.৪ শতাংশ মানুষ সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং দেশে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ১৩ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। প্রতিদিন কোটি কোটি ছবি, ভিডিও, মতামত ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে শেয়ার হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি এর অপব্যবহারও উদ্বেগের বিষয়। ভুয়া তথ্য, গুজব, সাইবার প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকতে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বার্তাও বহন করে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা
এআই ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 
সম্পর্ক শেষ, তবুও প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া ঘাটেন? অভ্যাস বদলাবেন যেভাবে
সোশ্যাল মিডিয়ায় শায়খ আহমাদুল্লাহর পোস্ট