ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া দিবস, কেন পালিত হয় এই দিন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আজ বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া দিবস, কেন পালিত হয় এই দিন? । ছবি: সংগৃহীত

ঘুম ভাঙতেই সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অফিসে কাজের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাতে ঘুমানোর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বর্তমান সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যার দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু যে মাধ্যমটি প্রতিদিন ব্যবহার করছেন, সেটির জন্যও যে একটি বিশেষ দিন রয়েছে, তা কি জানেন? আজ, ৩০ জুন, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিবস।

এই দিবসের উদ্দেশ্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা উদযাপন নয়, বরং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, শিক্ষা, ব্যবসা এবং সামাজিক পরিবর্তনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরা।

এক সময় দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর কয়েক সেকেন্ডেই পৌঁছে যায় অন্য প্রান্তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা ব্যবসায়িক অংশীদার— সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে এই মাধ্যম।

বর্তমানে শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা, বিনোদন, জনসচেতনতা এবং সংবাদ প্রচারের অন্যতম বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তারাও এখন এই মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য ও সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে এবং অনুসারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে নিয়মিত এই মাধ্যম ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন

করোনা মহামারির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লকডাউনের সময় মানুষ এই মাধ্যমেই চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, জরুরি সহায়তা, অনলাইন শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রের যোগাযোগ এবং প্রিয়জনের খোঁজখবর নিয়েছেন। অনেকের জন্য এটি মানসিক সাহস ও সহযোগিতারও বড় একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে।

বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর অবদান তুলে ধরতেই এই দিবস চালু করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিশ্বের প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সিক্সডিগ্রিজ চালু হয় ১৯৯৭ সালে। এটি প্রতিষ্ঠা করেন অ্যান্ড্রু ওয়েইনরিচ। অল্প সময়ের মধ্যেই এর ব্যবহারকারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়, তবুও আধুনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তি তৈরি করে দেয় এই প্ল্যাটফর্ম।

এরপর ২০০২ সালে আসে ফ্রেন্ডস্টার এবং ২০০৩ সালে চালু হয় লিংকডইন। পরে একে একে আসে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাটসহ অসংখ্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যা আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০০ থেকে ৬১২ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ থেকে ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৫৩.৪ শতাংশ মানুষ সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং দেশে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ১৩ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। প্রতিদিন কোটি কোটি ছবি, ভিডিও, মতামত ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে শেয়ার হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি এর অপব্যবহারও উদ্বেগের বিষয়। ভুয়া তথ্য, গুজব, সাইবার প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকতে সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বার্তাও বহন করে।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
সম্পর্ক শেষ, তবুও প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া ঘাটেন? অভ্যাস বদলাবেন যেভাবে
সোশ্যাল মিডিয়ায় শায়খ আহমাদুল্লাহর পোস্ট
১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য আরব আমিরাতে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ
‘রাগ করলা’ নিয়ে মাতামাতি, নেটিজেনদের একহাত নিলেন নিলয়