প্রেগন্যান্সি কিটে হালকা দাগের আসল কারণ জানুন 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০৯:৪৯ এএম


প্রেগন্যান্সি কিটে হালকা দাগের আসল কারণ জানুন 
প্রেগন্যান্সি কিটে হালকা দাগের আসল কারণ জানুন  । ছবি: সংগৃহীত

বাড়িতেই গর্ভধারণ পরীক্ষা করতে এখন অনেকেই প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহার করেন। এটি সহজ, দ্রুত এবং ঝামেলাহীন। তবে অনেক সময় ফলাফল দেখে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে দুটি দাগ দেখা গেলেও একটি যদি গাঢ় আর অন্যটি হালকা বা ঝাপসা হয়, তখন অনেকেই বুঝতে পারেন না ফলাফল ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক।

চিকিৎসকদের মতে, হালকা বা ঝাপসা দাগ দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি গর্ভধারণেরই ইঙ্গিত দেয়। তবে কেন এমন হয়, সেটি জানা জরুরি।

কীভাবে কাজ করে গর্ভধারণ পরীক্ষার কিট?

ঘরোয়া প্রেগন্যান্সি কিট প্রস্রাবে থাকা একটি বিশেষ হরমোন শনাক্ত করে। নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে স্থাপিত হওয়ার পর শরীরে এই হরমোন তৈরি হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে এর মাত্রা বাড়ে।

যদি হরমোনের পরিমাণ যথেষ্ট থাকে, তাহলে পরীক্ষার কিটে দুটি স্পষ্ট গাঢ় দাগ দেখা যায়। কিন্তু অনেক সময় একটি দাগ গাঢ় হলেও অন্যটি হালকা বা ঝাপসা দেখা যায়। এখান থেকেই শুরু হয় বিভ্রান্তি।

আরও পড়ুন

হালকা দাগ কেন দেখা যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা দাগের পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে।

গর্ভধারণের একেবারে শুরুর সময় পরীক্ষা করলে শরীরে হরমোনের মাত্রা তখনও কম থাকে। ফলে কিট হরমোন শনাক্ত করলেও দ্বিতীয় দাগটি গাঢ় হয় না।

পরীক্ষার আগে বেশি পানি বা তরল পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয়ে যায়। এতে হরমোনের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় দাগ হালকা দেখা দিতে পারে।

সকালের পরিবর্তে দুপুর বা সন্ধ্যায় পরীক্ষা করলে একই সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম প্রস্রাব দিয়ে পরীক্ষা করলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়া যায়।

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা চললে অনেক সময় এমন ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যাতে একই ধরনের হরমোন থাকে। সে কারণে পরীক্ষার ফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

আরও একটি কারণ হলো নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরে ফল দেখা। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফল দেখতে বলা হয়। এর পরে স্ট্রিপ শুকিয়ে গেলে একটি হালকা দাগ দেখা যেতে পারে, যা অনেকেই ভুল করে ইতিবাচক ফল মনে করেন।

কী করবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ, যদি প্রথম পরীক্ষায় একটি দাগ হালকা দেখা যায়, তাহলে দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করে আবার পরীক্ষা করুন। এ সময়ের মধ্যে শরীরে হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ফল আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তবে একাধিকবার একই ধরনের ফল এলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

আতঙ্ক নয়, নিশ্চিত হোন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণ পরীক্ষার কিটে হালকা দাগ মানেই খারাপ খবর নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। তাই ফল নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে সঠিক সময়ে পুনরায় পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission