ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অটোইমিউন ডিজিজের লক্ষণগুলো কি কি?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অটোইমিউন ডিজিজে আক্রান্ত, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা কঠিন। এক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা সাধারণত শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, ভুলবশত সুস্থ টিস্যুকে আক্রমণ করে। এটি বিভিন্ন অঙ্গকে প্রভাবিত করে এবং এর ফলে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যা বেশিরভাগ মানুষই উপেক্ষা করে। জেনে নিন অটোইমিউন ডিজিজের লক্ষণ-

অবিরাম ক্লান্তি যা বিশ্রামেও কমে না

দীর্ঘদিন কাজ করার পর ক্লান্ত বোধ করা স্বাভাবিক, কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম সত্ত্বেও অবিরাম ক্লান্তি থাকাটা স্বাভাবিক নয়। এই ধরনের অবসাদ অটোইমিউন রোগের অন্যতম সাধারণ এবং উপেক্ষিত উপসর্গগুলোর মধ্যে একটি। এর কারণে সাধারণ দৈনন্দিন কাজগুলোও কষ্টকর মনে হতে পারে এবং এটি সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে। এটি সাধারণ ক্লান্তির মতো নয়, অটোইমিউন-সম্পর্কিত ক্লান্তি এক রাতের ভালো ঘুমের পর দূর হয় না। এটি একটি অতি সক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট চলমান প্রদাহের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া।

সকালে গাঁট শক্ত হয়ে যাওয়া

গাঁটে ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, কিন্তু সকালে যে শক্তভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয় এবং আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থাকে, তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ‘স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জার্নাল অফ রিউম্যাটোলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই উপসর্গটি সাধারণত রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন ডিজিজে দেখা যায়।

মনোযোগের অভাব

অনেক অটোইমিউন ডিজিজ মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ব্রেইন ফগ নামে পরিচিত একটি অবস্থা তৈরি হয়। মানুষ মনোযোগ দিতে হিমশিম খেতে পারে, সাধারণ জিনিস ভুলে যেতে পারে, কর্মক্ষেত্রে বা দৈনন্দিন কাজ করার সময় মনোযোগী থাকা কঠিন বলে মনে করতে পারে। কখনও কখনও এর জন্য ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপকে দায়ী করা হয়, তবে এটি চলমান রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকলাপ এবং প্রদাহের সাথেও সম্পর্কিত হতে পারে।

চুল পড়া

চুল পড়া বেড়ে যাওয়া অটোইমিউন রোগের আরেকটি সূক্ষ্ম লক্ষণ হতে পারে। যদিও হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির অভাব বা মানসিক চাপের কারণে চুল পড়তে পারে, তবে লুপাস এবং হাশিমোটোস থাইরয়েডাইটিসের মতো অটোইমিউন ডিজিজও এই সমস্যার কারণ হতে পারে। যদি কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই চুল পাতলা হতে শুরু করে বা এর সাথে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তবে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা উচিত।

আরও পড়ুন

শুষ্ক চোখ এবং শুষ্ক মুখ

অনেকেই মনে করেন যে শুষ্ক চোখ বা শুষ্ক মুখের কারণ হলো ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা পরিবেশগত কারণ। তবে, ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতা সিওগ্রেনস সিনড্রোম নামক একটি অটোইমিউন ডিজিজেরও লক্ষণ হতে পারে, যা চোখের পানি এবং লালা উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলোকে প্রভাবিত করে।

হালকা জ্বর আসা ও যাওয়া

কোনো সুস্পষ্ট সংক্রমণ ছাড়াই বারবার হালকা জ্বর হওয়া আরেকটি লুকানো ইঙ্গিত হতে পারে। যেহেতু অটোইমিউন ডিজিজ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্রমাগত সক্রিয় থাকে, তাই শরীরে সময়ে সময়ে হালকা তাপমাত্রা বৃদ্ধি হতে পারে। মানুষ এই জ্বরকে ভাইরাল অসুস্থতা বা অস্থায়ী প্রতিক্রিয়া বলে উড়িয়ে দেয়, কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া বারবার এমন ঘটনাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

ত্বকের পরিবর্তন

ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কারণ তা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা সম্পর্কে মূল্যবান সূত্র দিতে পারে। গালের উপর প্রজাপতির মতো আকৃতির র‍্যাশ লুপাসের একটি সুপরিচিত লক্ষণ। ব্যাখ্যাতীত কালশিটে দাগ বা ত্বকের বিবর্ণ ছোপও কোনো অন্তর্নিহিত অটোইমিউন রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। যদিও এই পরিবর্তনগুলো সবসময় অটোইমিউন রোগের কারণে হয় না, তবুও ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গগুলো একজন ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

অবশ ভাব, ঝিনঝিন করা এবং পেশী দুর্বলতা

হাত, পা বা শরীরের অন্যান্য অংশে অনুভূতির পরিবর্তন, যার মধ্যে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন করা অন্তর্ভুক্ত, তা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। পেশী দুর্বলতা আরেকটি লক্ষণ যা স্নায়ুর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো অটোইমিউন ডিজিজে এই স্নায়বিক লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক রোগ নির্ণয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময়মতো চিকিৎসা রোগের অগ্রগতি ধীর করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন নিয়ে ড্যাবের গোলটেবিল বৈঠক বুধবার
আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৫৫   
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা