ঘরে স্মার্ট টিভি বা টেলিভিশন থাকলেও এখন অনেক শিশুই বড় পর্দার বদলে ছোট্ট মোবাইল ফোনেই বেশি সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। পরিবারের সবাই টেলিভিশন দেখলেও শিশুরা নিজের মতো করে মোবাইলে ভিডিও দেখা, খেলা বা বিভিন্ন কিছু দেখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যবহারের সময় শিশুরা নিজেরাই ঠিক করতে পারে কী দেখবে, কখন বদলাবে এবং কতক্ষণ ব্যবহার করবে। এই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে, যা টেলিভিশনে তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া যায়।
এছাড়া অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক নতুন ভিডিও দেখার সুযোগ শিশুদের মস্তিষ্ককে বারবার উদ্দীপিত করে। ফলে তারা দ্রুত নতুন বিনোদনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে দেখার অভ্যাসও কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিভিশন সাধারণত পরিবারের সবাই মিলে দেখার মাধ্যম হলেও মোবাইল একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তৈরি করে। পাশাপাশি স্ক্রল করা, খেলা খেলা বা নিজের ইচ্ছামতো ভিডিও চালানো ও বন্ধ করার সুবিধা শিশুদের আরও বেশি আকৃষ্ট করে।
তবে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুদের জন্য উদ্বেগের কারণও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে থাকলে মনোযোগ কমে যেতে পারে, ভাষা শেখার গতি ধীর হতে পারে, ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং সামাজিক দক্ষতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞরা শুধু মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছেন না। বরং শিশুদের জন্য খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বোর্ডে খেলা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো বিকল্প আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এছাড়া খাবার খাওয়ার সময় ও ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার সীমিত রাখা এবং পরিবারের বড়দের সচেতন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসও শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



