ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

স্মার্ট টিভি থাকলেও কেন মোবাইলেই আসক্ত হচ্ছে শিশুরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
স্মার্ট টেলিভিশন থাকলেও কেন মোবাইলেই আসক্ত হচ্ছে শিশুরা? । ছবি: সংগৃহীত

ঘরে স্মার্ট টিভি বা টেলিভিশন থাকলেও এখন অনেক শিশুই বড় পর্দার বদলে ছোট্ট মোবাইল ফোনেই বেশি সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। পরিবারের সবাই টেলিভিশন দেখলেও শিশুরা নিজের মতো করে মোবাইলে ভিডিও দেখা, খেলা বা বিভিন্ন কিছু দেখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যবহারের সময় শিশুরা নিজেরাই ঠিক করতে পারে কী দেখবে, কখন বদলাবে এবং কতক্ষণ ব্যবহার করবে। এই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে, যা টেলিভিশনে তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া যায়।

এছাড়া অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক নতুন ভিডিও দেখার সুযোগ শিশুদের মস্তিষ্ককে বারবার উদ্দীপিত করে। ফলে তারা দ্রুত নতুন বিনোদনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে দেখার অভ্যাসও কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিভিশন সাধারণত পরিবারের সবাই মিলে দেখার মাধ্যম হলেও মোবাইল একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তৈরি করে। পাশাপাশি স্ক্রল করা, খেলা খেলা বা নিজের ইচ্ছামতো ভিডিও চালানো ও বন্ধ করার সুবিধা শিশুদের আরও বেশি আকৃষ্ট করে।

তবে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুদের জন্য উদ্বেগের কারণও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে থাকলে মনোযোগ কমে যেতে পারে, ভাষা শেখার গতি ধীর হতে পারে, ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং সামাজিক দক্ষতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা শুধু মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছেন না। বরং শিশুদের জন্য খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বোর্ডে খেলা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো বিকল্প আনন্দের পরিবেশ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এছাড়া খাবার খাওয়ার সময় ও ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার সীমিত রাখা এবং পরিবারের বড়দের সচেতন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসও শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
এবার বাবর আজমদের ফোন জব্দ করল পিসিবি
দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারেই কী মস্তিষ্কে টিউমার হয়
ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণ গেল যুবকের
অনলাইন গেমে আসক্ত শিশু? বাড়ছে নতুন ঝুঁকি