উৎসব মানেই বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ, আর সেই উৎসবের রঙকে আরও রঙিন করে তোলে নান্দনিক আলপনা। বাড়ির উঠোন, সিঁড়ি, ঘরের মেঝে কিংবা দেয়ালে আঁকা নিখুঁত সব নকশা কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং আমাদের সমৃদ্ধ শিল্পমনা সংস্কৃতির পরিচয় দেয়।
এক সময় কেবল চালের গুঁড়া দিয়ে আলপনা আঁকার প্রচলন থাকলেও, বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে এতে যুক্ত হয়েছে অক্সাইড ও অ্যাক্রিলিক রঙের ব্যবহার।
এমনকি আধুনিক অনেক বাড়িতে মাটির রঙের দেয়ালের ওপর সাদা রঙের আলপনা এক অনন্য নান্দনিকতা তৈরি করছে।
উৎসবের ধরন ও তাৎপর্যের ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত আলপনার নকশা নির্বাচন করা হয়। বিয়েবাড়িতে লতাপাতা, ফুল ও প্রকৃতির নকশা বেশি প্রচলন রয়েছে।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি নিছক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এখনো অনেকে পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে বাড়িতে স্থায়ী আলপনা করাচ্ছেন, যার স্থায়িত্বকাল প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তবে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের প্রভাবে ঢাকা শহরে আলপনা আঁকার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ভাড়া বাসায় টাইলস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে আলপনা করতে পারেন না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখন শোলা, কর্কশিট বা রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আলপনার ব্যবহার বাড়ছে।
এসব আলপনা মেঝেতে না রেখে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা যায়, যা গৃহসজ্জায় আনে আভিজাত্যের ছোঁয়া। ঢাকার বাইরে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উঠোনে বা বারান্দায় এখনো শৌখিন পুরুষ ও নারীদের দক্ষ হাতে আলপনা আঁকার দৃশ্য চোখে পড়ে।
টাইলসের মেঝেতে আলপনা করার ক্ষেত্রে এখন এমন সব অস্থায়ী রং পাওয়া যায়, যা পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিলেই উঠে যায়।
এছাড়া চারুকলার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শৌখিন মানুষজন নিজেদের পছন্দমতো নকশা করিয়ে নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিল্প ও নান্দনিকতাকে যারা ভালোবাসেন, তাদের কাছে আলপনা আজও উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময়ের পরিবর্তনের সাথে আলপনা আঁকার উপকরণ বদলালেও এর শৈল্পিক আবেদন বাঙালির কাছে এখনো অমলিন।
আরটিভি/এএইচ





