শীতের সকালে বাজারে গেলেই চোখে পড়ে টাটকা সবজির সমারোহ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা কিংবা সর্ষে শাক—সবই যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনই স্বাদে অতুলনীয়। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই এই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই।
দেখা দেয় পেট ফাঁপা, গ্যাস বা বদহজমের মতো অস্বস্তিকর সমস্যা। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, তেল-মসলা কম খেয়েও কেন শাকসবজি খাওয়ার পর এমনটা হয়?
পুষ্টিবিদদের মতে, এর পেছনে মূল কারণ হলো শীতের বিশেষ কিছু সবজির প্রকৃতি। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি বা মুলার মতো সবজিগুলো ‘ক্রুসিফেরাস’ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এই সবজিগুলো শরীরে অত্যন্ত উপকারী হলেও কিছু মানুষের জন্য এগুলো হজম করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সবজিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। সাধারণত ফাইবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু যাদের আগে থেকেই ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ফাইবার হজম করা জটিল হয়ে দাঁড়ায়। ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকার ফলে তা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করে।
এছাড়া, এই সবজিগুলোতে ‘রাফিনোজ’ নামক এক ধরণের জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে। আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্রে রাফিনোজ ভাঙার মতো প্রয়োজনীয় এনজাইম থাকে না। ফলে এটি যখন হজম না হয়ে বৃহদান্ত্রে বা কোলনে পৌঁছায়, তখন সেখানকার ব্যাকটেরিয়া একে ভাঙতে গিয়ে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন করে। এর ফলেই পেট ভার হয়ে থাকা বা ঘন ঘন ঢেঁকুর ওঠার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
তবে পেট ফাঁপার ভয়ে এই পুষ্টিকর সবজিগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নার পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অনেক সময় দেখা যায় সালাদে কাঁচা বাঁধাকপি বা লেটুস ব্যবহার করা হয়, কিংবা ব্রকোলি অর্ধেক সেদ্ধ করে খাওয়া হয়।
যারা গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য কাঁচা বা আধসেদ্ধ সবজি বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কপি জাতীয় সবজি সবসময় ভালো করে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত।
রান্নার সময় আদা, জিরে, গোলমরিচ ব্যবহার করলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং গ্যাসের প্রকোপ কমে। রান্নার আগে সবজিগুলো কেটে লবণ ও হলুদ মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন, তাদের উচিত একবারে অনেকটা সবজি না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়া।
এছাড়া খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাবার ভালো করে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস হজমে সাহায্য করে।
শীতের এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে হলে শরীর কোন খাবারে কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। কোন নির্দিষ্ট সবজি খেলে আপনার সমস্যা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করুন এবং সেই অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। সঠিক নিয়মে রান্না আর পরিমিত বোধই পারে শীতের এই শাকসবজিকে আপনার জন্য আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে।
আরটিভি/এএইচ





