চসিক নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘বিলাই চিমটি’! তার আগে বিস্তারিত জানা যাক- ভীষণ চুলকানোর এই উপকরণটির বিষয়ে। ‘বিলাই চিমটি’ বা আলকুশি একটি গুল্ম জাতীয় গাছ। এটি শিম পরিবারের একটি উদ্ভিদ। ফল অনেকটা শিমের মতো, ৪ থেকে ৬ টা বীজ থাকে। শুকনো ১০০টি বীজের ওজন হচ্ছে ৫৫-৮৫ গ্রাম। বীজগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোম দ্বারা আবৃত থাকে যা সহজেই পৃথক হয়ে যায়। এগুলি ত্বকের সংস্পর্শে এলে প্রচণ্ড চুলকানি সৃষ্টি করে। বানরের সঙ্গে এদের সম্পর্ক হল, যখন আলকুশি ফল পুষ্ট হতে থাকে তখন চুলকানির ভয়ে বানরের দল ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়, কারণ এর হুল বাতাসেও ছড়িয়ে পড়ে। বানরেরা ফিরে আসে যখন মাটিতে ফল পড়ে যায়। সেগুলো তারা খায় বিশেষ দৈহিক কারণে।
এটির বোটানিক্যাল নাম ‘Pruriens’। যে শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। যার অর্থ চুলকানির অণুভূতি। ইন্টারনেট জগতের তথ্যভাণ্ডার উইকিপিডিয়া বলছে, এই গাছে ধরা ফলের খোসা ও পাতায় আছে- সেরাটোনিন, যার কারণে চুলকানির উদ্রেক হয়। মধ্য আমেরিকায় বিলাই চিমটির বীচি আগুনে ভেজে চূর্ণ করা হয় কফির বিকল্প হিসেবে। এ কারণে ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশে এর প্রচলিত নাম হচ্ছে নেস ক্যাফে। গুয়েতেমালায় কেচি সম্প্রদায়ের মানুষ এখনও খাদ্যশস্য হিসেবে এটি আবাদ করে। সবজি হিসেবে রান্না হয়। যার শরীরে এটি ছিটানো হয় তার প্রায় একদিন অস্বস্তিতে থাকতে হয়। চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে এ উদ্ভিদকে বাঁদরওলা বা ‘বিলাই খামচি’ বলা হয়।
উল্লেখযোগ্য এই গাছটিই এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নগরের লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আবুল হাসনাত বেলালের নারী অনুসারীরা এ অভিযোগ করেন।
শহীদনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারী সালমা পারভীন বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী এ এফ কবির মানিকের নারী সমর্থকরা আমাদের ওপর ‘বিলাই খামচি’ ছিটিয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমাদের ঘায়েল করতে এ ধরণের অপকর্ম করেছে তারা। নগরের লালখানবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী ২ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
কেএফ




