জনবল ও ল্যাবের অভাবে ভুগছে ভোক্তা অধিদপ্তর

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ ২০২২ , ১০:১৯ পিএম


The consumer department is suffering from lack of manpower and labs
বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২২ আলোচনা সভা

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পর্যাপ্ত জনবল ও ল্যাব সংকটে ভুগছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ‘বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২২ আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের ১৭ কোটি জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের অফিসার মাত্র ৯৬ জন। আর কর্মকর্তা-কর্মচারি মিলিয়ে ২১৭ জন। এই জনবল বৃদ্ধির জন্য আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এখন আমাদের পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন। আমাদের জনবল কাঠামো বাড়ানো দরকার হয়ে পড়েছে। সেই বিষয়ে নিশ্চয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যরা দৃষ্টি দেবেন।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিজস্ব ল্যাবরেটরি প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখন আমাদেরকে বিএসটিআই বা অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাৎক্ষণিক পণ্য পরীক্ষার দরকার হলে আমরা সেটি করতে পারছি না। সেক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব ল্যাব হলে কাজ আরও সহজ হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনশাস কনজ্যুমারস সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে কয়েক লাখ ভোক্তা। অথচ তাদের জন্য জেলা পর্যায়ে নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র একজন সহকারি পরিচালক (এডি)। একজন কর্মকর্তার পক্ষে লাখ লাখ ভোক্তার সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।’

একজন অফিসার যদি জেলার সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে একবার তদারকি করতে যেতে চান; তাহলে তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো জেলায় এমনও থানা রয়েছে যেটি জেলা সদর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। গ্রামের কোনো ভোক্তার কাছে বিক্রেতা যদি একটি পণ্যে ৫ টাকা বেশি নেয়, তাহলে বিচার পেতে ভোক্তাকে ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। এতে তার খরচ হয় কয়েক শ’ টাকা এবং অপচয় হয় সময়ও। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবারও যেতে হয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে ভোক্তা সেবা পেতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জনবল বৃদ্ধি জরুরি।থানা পর্যায়ের ভোক্তারা যদি নিজ এলাকা থেকেই সেবা না পায়, তাহলে ভোক্তা অধিকার আইনের উদ্দেশ্য যথাযথভাবে পূরণ হবে না।’

ভোজ্যতেলের সংকট অনেকটা কেটে যাবে এমন আশ্বাস দিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশেরে ভোজ্যতেল রিফাইনারিগুলোতে অভিযান চলছে। যেটি আরও দু-একদিন চলবে। আমার মনে হয় ভোজ্যতেলের যে সংকট চলছে, সেটি শিগগিরই অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারব।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পর্যাপ্ত জনবল ও ল্যাব সংকটে ভুগছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, ‘কোনো ভোক্তা অনিয়মের শিকার হলে আমাদের হটলাইন ১৬১২১-এ যোগাযোগ করতে পারেব। তাতে ভোক্তা হিসেবে ওই ব্যক্তির প্রতি আমাদের সহযোগিতা থাকবে।’

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission