সারা দেশজুড়ে অনুভূত সাম্প্রতিককালের অন্যতম তীব্র ভূমিকম্পে ভবন ধস, দেয়াল চাপা এবং আতঙ্কে লাফ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া সংবাদে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে এবং আহত হয়েছেন ৬০০ জনেরও বেশি।
ঢাকা:
রাজধানীতে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলী এলাকায় পাঁচতলা ভবনের রেলিং ভেঙে রাস্তায় থাকা তিন পথচারী নিহত হন। তাদের মধ্যে বাবা–ছেলে হাজি আব্দুল রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১৩) এবং সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফি রয়েছেন।
এ ছাড়া মুগদার মদিনাবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছেন এক নিরাপত্তা কর্মী।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে দিনভর চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গাবতলী এলাকায় বাড়ির সানশেড ভেঙে পড়ে একটি শিশু এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা মারা যান।
মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ। আর আতঙ্কে দৌড়ানোর সময় গাছ থেকে পড়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি।
রূপগঞ্জে ১০ মাসের শিশুর করুণ মৃত্যু: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গোলাকান্দাইল এলাকায় দেয়াল ধসে মারা গেছে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা।
আহত ছয় শতাধিক
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া কিংবা দ্রুত নামার চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হওয়া পোশাক শ্রমিক।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ফাটল–ধস
পুরান ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে, অনেক স্থাপনায় নতুন করে ফাটল দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস একাধিক ধসের ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিয়েছে।
৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত
ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ বা কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রের তালিকায় ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
ভূমিকম্পবিদরা বলছেন, এই মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো জরুরি ভিত্তিতে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার শোক ও নির্দেশনা, হতাহতের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ত্রাণ–উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য জরুরি কন্ট্রোল রুম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্তকতার সঙ্গে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরটিভি/এসকে




