রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাস ও যাত্রীদের উদ্ধারে চলমান তৎপরতা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর মনিটরিং এবং তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বার্তায় নৌমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুততম সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল নিরলসভাবে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনসহ ইতোমধ্যে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসকে সদস্য সচিব করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ সহকারী পরিচালক।
তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটিকে এরই মধ্যে টেনে তুলতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। বাসের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে, বাসটি তলিয়ে যাওয়ার সময় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রাখা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
আরটিভি/এসএইচএম




