ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর গুলি করা হয়। হামলার একদিন পার হয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে, শ্যুটার কি ধরনের গুলি ব্যবহার করেছে সে তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ক্রাইম সিন ইউনিট ও সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যবহৃত গুলিটি ছিল ৭.৬৫ ক্যালিবারের, যা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত একটি অস্ত্রের গুলি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র অপরাধ জগতের মধ্যেই সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না, যা হামলার পেছনের পরিকল্পনা ও অস্ত্রের উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রাচারণা চালানোর সময় রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মতিঝিল দিক থেকে একটি কালো মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি আসে। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি ক্লোজ রেঞ্জ (খুব কাছ) থেকে হাদির মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে এলাকা ত্যাগ করে। এরপর হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। সেখানে থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওসমান হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। তবে, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, ওসমান হাদিকে গুলি করা অভিযুক্তদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে দুষ্কৃতিকারীদের পরিচয়সহ পুরো ঘটনার পূর্বাপর সম্ভাব্য সব তথ্যই যাচাই করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হাদির সঙ্গে থাকা দুই যুবককের মধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তার নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ ওরফে রাহুল। তিনি রাজধানীর আদাবর থানা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে পুরোনো খবর থেকে জানা গেছে।
ফয়সালের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে; উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। তার বাবার নাম মো. হুমায়ুন কবির ওরফে আবদুল মালেক মুন্সি।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ফয়সালের পৈত্রিক বাড়ি বাউফলে হলেও অনেক বছর ধরে তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। এমনকি তার বাবা কিংবা পরিবার কাউকে এলাকা দেখা যেত না। ফয়সাল করিম কোনোদিন গ্রামের বাড়িতে আসেননি। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা ঢাকায় থাকেন।
আরটিভি/আরএ





