নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু

বাসস

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৩৩ পিএম


নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু

নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন (মুন অ্যালার্ট)।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদারকরণ এবং জনসাধারণের তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে নিখোঁজ শিশু-সংক্রান্ত টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে মুন অ্যালার্ট ও হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

সিআইডি জানিয়েছে, মুন অ্যালার্ট-এর আওতায় কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হওয়ার যুক্তিসংগত আশঙ্কা দেখা দিলে, যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করবে। এই সতর্কবার্তা অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল এসএমএস বা সেল ব্রডকাস্টিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

নিখোঁজ শিশু-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, মিসিং চিলড্রেন সেল-০১৩২০০১৭০৬০ অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এ জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সতর্কবার্তা জারি, স্থগিত বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেলের ওপর।

বিজ্ঞাপন

সিআইডি আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম বা শিশু পাচারের আশঙ্কা দেখা দিলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

সিআইডি প্রধান বলেন, ‘দেশে প্রতিনিয়ত অনেক শিশু নিখোঁজ হচ্ছে এবং এদের একটি বড় অংশ মানবপাচারের শিকার হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে অনেক শিশুকে যৌন নির্যাতন, অঙ্গহানি কিংবা বিভিন্ন অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’ 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এমনকি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। আবার কোনো কোনো ঘটনায় নিকটাত্মীয়রাও এই অপরাধে জড়িত থাকে। অভিভাবকরা জায়গা-জমি ও অর্থ দিয়েও অনেক সময় সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের চারপাশেই ঘটছে। তাই নিখোঁজ শিশু উদ্ধার ও অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। আমি চাই, আমরা সবাই মিলে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলব, যেখানে পুলিশ, গণমাধ্যম ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ শিশু উদ্ধার বা অপরাধ দমন শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। সমাজে যে অপরাধপ্রবণতা তৈরি হচ্ছে, তা প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।’

আন্তর্জাতিকভাবে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৬ সালে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ চালু হয়, যা বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যকর রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সিলেটে পাঁচ বছর বয়সি শিশু মুনতাহা আক্তার নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি দ্রুত, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তোলে। মুন অ্যালার্ট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে, যা শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission