বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ‘ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে প্রশ্নে যা বলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:০৬ পিএম


বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ‘ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে প্রশ্নে যা বলল ভারত
ফাইল ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই এক ধরনের টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ। অন্যদিকে গত প্রায় দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এই ঘনিষ্ঠতায় ব্যাপক উদ্বেগবোধ করছে নয়াদিল্লি।  

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় আবারও আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ নিয়ে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। পরে সেই প্রশ্নগুলোর লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভায় প্রশ্ন তোলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কিনা এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কিনা, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা— এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংসদে আরও এক প্রশ্ন রাখা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কিনা।

বিজ্ঞাপন

জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে এরপর জিজ্ঞাসা করা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কিনা। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে, তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে?

জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে।

‘সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া, নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন।

আরটিভি/এসএইচএম

 

 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission