ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৭৭% ভোটার মনে করেন রাস্তা, কালভার্ট ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন: সিপিডি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, দেশের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ বা ৭৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা এখনও অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাদের প্রভাবিত করছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত, অনুষ্ঠান সহযোগী সামি মোহাম্মদ, মালিহা সাবাহ ও নূর ইয়ানা জান্নাত।

সিপিডির জরিপে দেখা গেছে, উন্নয়ন বলতে অধিকাংশ ভোটার এখনো সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও অন্যান্য দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পকেই প্রধান সূচক হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি এসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান যুক্ত থাকায় তাদের বিবেচনা হলো, এসব উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি), উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধারণা প্রবল।

ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন নিয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে উন্নয়ন ধারণা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও ভোটারদের ধারণা এখনো মূলত অবকাঠামোকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বাংলাদেশে সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—৯৫ শতাংশ ভোটার এমন আশাবাদী ধারণা পোষণ করেন।

আরও পড়ুন

হেলেন মাশিয়াত বলেন, উন্নয়ন ধারণার এই একমুখী প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়ালে ফেলে দিতে পারে। তাদের মতে, উন্নয়ন আলোচনায় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনমানের বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জরিপে ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার ৪৫০ জন নির্বাচন প্রার্থী, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১ হাজার ২০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে পরিবেশ, সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন—এই তিন স্তম্ভে ভোটার ও প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

জরিপে উঠে এসেছে, পরিবেশ রক্ষার উপায় হিসেবে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার গাছ লাগানো ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রার্থীরাও প্রায় একই ধরনের সমাধানের কথা বলেছেন। গবেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে একধরনের আচরণগত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, তারা যেটা ব্যক্তিগতভাবে সহজে করতে পারেন, সেটাকেই পরিবেশ রক্ষার মূল সমাধান হিসেবে দেখছেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে জানেন—এমন ভোটারের হার ৪৭ শতাংশ। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪২ শতাংশ। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি আছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশ ও অর্থনীতির তুলনায় সামাজিক স্তম্ভকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। ভোটারদের কাছে দারিদ্র্য, আয় ও কর্মসংস্থানের চাপ এতটাই প্রবল যে সামাজিক বিষয়গুলো তাদের কাছে গৌণ হয়ে উঠছে।

সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে ভোটারদের অগ্রাধিকার খুবই মৌলিক দুটি বিষয়ে। সেই দুটি বিষয় হলো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। সিপিডির মতে, এই বাস্তবতা থেকে দেখা যায়, দেশের বড় একটি অংশ এখনও মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াই করছে।

সিপিডির মতে, একটি বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সব প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ এবং তাদের সমর্থক ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তা না-হলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন ওঠার আশঙ্কা থাকবে।

গবেষণা সংস্থাটি আরও জানায়, নির্বাচন কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও মতামতের প্রতিফলন। সে কারণে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার মূল শর্ত।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। এ ছাড়া সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনারগার্ডের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারির ভূমিকা জোরদার এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। আরটিভি/এসআর
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী
পুলিশে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘বিশেষ ইউনিট’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
পুলিশে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘বিশেষ ইউনিট’
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাষণের জন্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাষণের জন্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জনগণের ক্ষমতায়ন ছাড়া রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
জনগণের ক্ষমতায়ন ছাড়া রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী
সামনে লম্বা ছুটির সুযোগ, পাবেন না যারা
আগামী অক্টোবরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে।
সামনে লম্বা ছুটির সুযোগ, পাবেন না যারা
আরও পড়ুন
ভ্যানে উঠলে শরীরের ‘হাড্ডিসহ নড়ে যায়’ তারাগঞ্জের এই রাস্তায়
‘মালয়েশিয়া মডেলে দেশে রাস্তা হবে, নষ্ট হবে না বর্ষায়’  
১৯ বছরেও হয়নি রাস্তা সংস্কার, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
ভোটার ভারতের, প্রধান শিক্ষক বাংলাদেশের স্কুলে