ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ছায়া মন্ত্রিসভা কী, জানুন বিস্তারিত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’- ধারণাটি বহু বছরের পুরোনো হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির ঘোষণার পর সেই পুরোনো রাজনৈতিক ভাবনাটি নতুন করে আলোচনা করা যেতে পারে।

মূলত একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে ছায়া মন্ত্রিসভার ভাবনাটি এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনসভায় সরকারি দলের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধীদলের সদস্যদের শুধু বিতর্কই যথেষ্ট নয়, সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিরোধীদলগুলোকে কিছুটা বাড়তি দায়িত্বও পালন করতে হয়। তাই সরকারের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিরোধীদলের সদস্যরা যখন একটি আনুষ্ঠানিক সমান্তরাল কাঠামো গড়ে তোলেন তখন সেই কাঠামোকে বলা হয় ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’।

অর্থাৎ বিরোধীদলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভার কাজ-কর্মসূচি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেখানকার ভুলত্রুটি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।

ছায়া মন্ত্রিসভা:

ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ থাকেন। এই মন্ত্রীরা মূলত বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা। যেমন অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা ক্ষমতায় না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, বাজেট, আইন ও কর্মসূচি নিয়ে বিকল্প ভাবনা তুলে ধরেন।

যেভাবে গঠিত হয়

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া দেশভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও সাধারণ কাঠামো প্রায় একই। সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেন; অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়; সরকারের মন্ত্রণালয় কাঠামো অনুসরণ করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়; অঞ্চল, মতাদর্শ, গোষ্ঠী ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখা হয়।

ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ

ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিরোধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যয়, নীতি ও আইন প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলে। শুধু বিরোধিতা নয়, একই ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত সমাধান তুলে করে। বাজেট, আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সব বড় আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীরা খাতভিত্তিক বক্তব্য দেন।

যেসব দেশে রয়েছে ছায়া মন্ত্রিসভা

ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত গ্রেট ব্রিটেনের ‘ওয়েস্টমিনস্টার’ ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকারী দেশগুলোয় বেশি প্রচলিত। এছাড়া ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রভাবশালী রূপ দেখা যায় যুক্তরাজ্যে। এখানে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় ‘হিজ ম্যাজেস্টিস মোস্ট লয়্যাল অপজিশন’, অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত কিন্তু সরকারের বিরোধী। অস্ট্রেলিয়াতেও বিরোধী দল সুসংগঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং সংসদীয় কমিটি ও নীতি-নির্ধারণী বিতর্কে সক্রিয় থাকে। কানাডাতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে কখনও ‘অপজিশন ক্রিটিক’ বলা হয়। সেখানে প্রতিটি খাতের জন্য সমালোচক নির্ধারিত থাকে। নিউজিল্যান্ডেও বিরোধী দল সরকারবিরোধী নীতি বিশ্লেষণ ও বিকল্প পরিকল্পনায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। ভারত ব্রিটেনের মতো সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করলেও দেশটিতে আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা নেই। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতভিত্তিক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক রাখে, যা আংশিক ছায়া মন্ত্রিসভার কাঠামোর মতো কাজ করে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও কয়েকটি ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা আছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গঠিত না হলেও বিভিন্ন সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঘোষিত কমিটির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক ছায়া কমিটি গঠন করেছে। তবে সেগুলো নিয়মিত সংসদীয় কাঠামোর অংশ নয়। বাজেট ও আইন প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা সীমিত ও দলীয় রাজনৈতিক কৌশলেই বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের পূর্ণাঙ্গ ছায়া মন্ত্রিসভার মতো প্রভাব কখনোই তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুন

যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য জোরদার হয়, নীতিনির্ধারণে বিকল্প চিন্তার প্রসার ঘটে, ক্ষমতার পালাবদলে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং একদলীয় আধিপত্যের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গণতন্ত্রের ‘অদৃশ্য কিন্তু কার্যকর’ একটি কাঠামো। এটি সরকার পরিচালনা করে না, কিন্তু সরকারকে দেশ পরিচালনায় সতর্ক রাখে। উন্নত সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা যত শক্তিশালী, শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিও তত দৃঢ়, এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

এদিকে পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হলে এই ছায়া মন্ত্রীরাই প্রায়শই মন্ত্রীর দায়িত্ব পান, ফলে তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকে। এতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসনিক দক্ষতা তৈরি হয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশের জন্য এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়িয়ে দিলো জাতিসংঘ
বাংলাদেশ সরকারকে জাতীয় অগ্রাধিকার এবং উত্তরণ প্রক্রিয়ার কারণে জীবিকার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিত ও সুনিশ্চিত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। 
বাংলাদেশের জন্য এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়িয়ে দিলো জাতিসংঘ
চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
তিন মাসে ১৯৩ কোটি টাকার মাংস বিদেশের রপ্তানি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
তিন মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯৩ কোটি টাকার গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি করেছে বলে জানালেন  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 
তিন মাসে ১৯৩ কোটি টাকার মাংস বিদেশের রপ্তানি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য সময় বেঁধে দিলো সরকার
সরকারি বাসা বরাদ্দ পাওয়ার পর যারা পুরো ফ্ল্যাট বা আংশিক বাসা সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের আগামী শনিবারের (৩১ অক্টোবর) মধ্যে ভাড়াটিয়াদের অপসারণ করে বরাদ্দকৃত বাসায় অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা না মানলে বাসা বরাদ্দ পাওয়া সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা না মানলে সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সম্প্রতি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কতিপয় বরাদ্দ প্রাপক তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বাসা বা ফ্ল্যাটের এক রুম, দুই রুম বা পুরো ফ্ল্যাট বা বাসা অন্যকে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২’ এর পরিপন্থি। ‘এমতাবস্থায়, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীন কোনো বাসা বা ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রাপক কর্তৃক তার নামে বরাদ্দকৃত বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ বা আংশিক (এক বা একাধিক রুমসহ) কোনোভাবেই সাবলেট বা ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। যারা এরইমধ্যে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট বা ভাড়াটিয়াকে আবশ্যিকভাবে অপসারণ করে যথানিয়মে বরাদ্দকৃত বাসায় অবস্থান বা বসবাস করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।’ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার পরে কোনো বাসায় সাবলেট বা ভাড়া পাওয়া গেলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ প্রাপকের বরাদ্দ বাতিলসহ বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  একই সঙ্গে উক্ত বিধিমালার বিধি ১৪ (৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ প্রাপকের অফিস প্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। আরটিভি/এসআর
সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য সময় বেঁধে দিলো সরকার
নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ
ভোক্তা পর্যায়ে নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। নির্ধারিত এ দাম ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। পত্র অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।  এরপর অক্টোবর মাসেও জ্বালানি তেলের এ দাম বহাল রাখা হয়। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার।  ওই সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আরটিভি/এসআর
নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ
আরও পড়ুন
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, পাস হলো ৬ বিল
বিএনপির মনোনয়ন পাননি বেবি নাজনিন
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের ফরম নিলেন ফারাজানা সিঁথি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার