ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ছায়া মন্ত্রিসভা কী, জানুন বিস্তারিত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘ছায়া মন্ত্রিসভা’- ধারণাটি বহু বছরের পুরোনো হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির ঘোষণার পর সেই পুরোনো রাজনৈতিক ভাবনাটি নতুন করে আলোচনা করা যেতে পারে।

মূলত একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে ছায়া মন্ত্রিসভার ভাবনাটি এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনসভায় সরকারি দলের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধীদলের সদস্যদের শুধু বিতর্কই যথেষ্ট নয়, সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিরোধীদলগুলোকে কিছুটা বাড়তি দায়িত্বও পালন করতে হয়। তাই সরকারের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিরোধীদলের সদস্যরা যখন একটি আনুষ্ঠানিক সমান্তরাল কাঠামো গড়ে তোলেন তখন সেই কাঠামোকে বলা হয় ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’।

অর্থাৎ বিরোধীদলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভার কাজ-কর্মসূচি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেখানকার ভুলত্রুটি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।

ছায়া মন্ত্রিসভা:

ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ থাকেন। এই মন্ত্রীরা মূলত বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা। যেমন অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বিপরীতে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা ক্ষমতায় না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, বাজেট, আইন ও কর্মসূচি নিয়ে বিকল্প ভাবনা তুলে ধরেন।

যেভাবে গঠিত হয়

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া দেশভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও সাধারণ কাঠামো প্রায় একই। সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেন; অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়; সরকারের মন্ত্রণালয় কাঠামো অনুসরণ করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়; অঞ্চল, মতাদর্শ, গোষ্ঠী ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখা হয়।

ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ

ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি বিরোধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যয়, নীতি ও আইন প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলে। শুধু বিরোধিতা নয়, একই ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত সমাধান তুলে করে। বাজেট, আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সব বড় আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীরা খাতভিত্তিক বক্তব্য দেন।

যেসব দেশে রয়েছে ছায়া মন্ত্রিসভা

ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত গ্রেট ব্রিটেনের ‘ওয়েস্টমিনস্টার’ ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকারী দেশগুলোয় বেশি প্রচলিত। এছাড়া ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রভাবশালী রূপ দেখা যায় যুক্তরাজ্যে। এখানে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় ‘হিজ ম্যাজেস্টিস মোস্ট লয়্যাল অপজিশন’, অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত কিন্তু সরকারের বিরোধী। অস্ট্রেলিয়াতেও বিরোধী দল সুসংগঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং সংসদীয় কমিটি ও নীতি-নির্ধারণী বিতর্কে সক্রিয় থাকে। কানাডাতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে কখনও ‘অপজিশন ক্রিটিক’ বলা হয়। সেখানে প্রতিটি খাতের জন্য সমালোচক নির্ধারিত থাকে। নিউজিল্যান্ডেও বিরোধী দল সরকারবিরোধী নীতি বিশ্লেষণ ও বিকল্প পরিকল্পনায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। ভারত ব্রিটেনের মতো সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করলেও দেশটিতে আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা নেই। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতভিত্তিক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক রাখে, যা আংশিক ছায়া মন্ত্রিসভার কাঠামোর মতো কাজ করে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও কয়েকটি ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা আছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গঠিত না হলেও বিভিন্ন সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঘোষিত কমিটির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক ছায়া কমিটি গঠন করেছে। তবে সেগুলো নিয়মিত সংসদীয় কাঠামোর অংশ নয়। বাজেট ও আইন প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা সীমিত ও দলীয় রাজনৈতিক কৌশলেই বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের পূর্ণাঙ্গ ছায়া মন্ত্রিসভার মতো প্রভাব কখনোই তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুন

যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য জোরদার হয়, নীতিনির্ধারণে বিকল্প চিন্তার প্রসার ঘটে, ক্ষমতার পালাবদলে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং একদলীয় আধিপত্যের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গণতন্ত্রের ‘অদৃশ্য কিন্তু কার্যকর’ একটি কাঠামো। এটি সরকার পরিচালনা করে না, কিন্তু সরকারকে দেশ পরিচালনায় সতর্ক রাখে। উন্নত সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা যত শক্তিশালী, শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিও তত দৃঢ়, এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

এদিকে পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হলে এই ছায়া মন্ত্রীরাই প্রায়শই মন্ত্রীর দায়িত্ব পান, ফলে তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকে। এতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসনিক দক্ষতা তৈরি হয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নেপালের বন্যায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন বালেন্দ্র শাহ
নেপালে ২৬ আগস্টের বন্যার পর সহমর্মিতা ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। 
নেপালের বন্যায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন বালেন্দ্র শাহ
শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির তথ্যের ভুলের কারণে ১১ মাস ধরে বেতন না পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন সুযোগ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগস্ট-২০২৫ থেকে জুন-২০২৬ পর্যন্ত বেতন-বোনাস জমা দেওয়ার অপশন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্যানেলে যুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বিল সাবমিটের নির্দেশনা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনআইডির তথ্যের ভুলের কারণে আগস্ট-২০২৫ থেকে জুন-২০২৬-এর মধ্যে এক বা একাধিক মাসের বেতন বা বোনাস পাননি-এমন শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন বা বোনাস সাবমিট করার অপশন প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে যুক্ত করা হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, যথাসময়ে বিল সাবমিট করার পর ব্যাংকের তথ্যের ভুলের কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর অর্থ ব্যাংকে জমা না হয়ে ফেরত এলে, অর্থাৎ বাউন্স ব্যাক হলে, সেটি বকেয়া হিসেবে বিল সাবমিট করার প্রয়োজন বা সুযোগ নেই। EFT salary Bounce অপশনে নাম যুক্ত হওয়ার পর সঠিক তথ্য দেওয়া হলে বাউন্স ব্যাক হওয়া অর্থ আবার পাঠানো হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের এমপিও বিল এবং প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে যুক্ত আগস্ট-২০২৫ থেকে জুন-২০২৬ মাসের বকেয়া মাসওয়ারি সাবমিট করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
অতিরিক্ত ৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন
দেশের শিল্পকারখানা, পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
অতিরিক্ত ৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে স্বামী বা স্ত্রীকে নতুন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে একাধিক নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশনের বয়স কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।  ওই সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, জনসাধারণের আগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। পর্ষদের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন করা গেলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা চালু করা সম্ভব হতে পারে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের একজন গ্রাহক ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন চলাকালে তার মৃত্যু হলে নমিনি ওই গ্রাহকের ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বজনীন পেনশন স্কিমেও নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পরিচালনা পর্ষদের সভায় উঠতে পারে। এদিকে চালুর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। এখন পর্যন্ত এসব স্কিমে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন যুক্ত হয়েছেন। এই স্কিমে তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে কম। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী এই স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এই স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বিশেষ প্রয়োজনে সর্বজনীন পেনশনের গ্রাহকের জমা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ আইনে রাখা হয়েছে। ওই ঋণের সুদও গ্রাহকের হিসাবেই জমা হওয়ার কথা। তবে এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। নতুন সংস্কারের অংশ হিসেবে ঋণ সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে অন্তত পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় তার পুরো জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের এক্সিট সুবিধা নেই। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বিমা সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পেনশনারদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা নামমাত্র প্রিমিয়াম নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক একটি সংস্করণ চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্ষদ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত নতুন সুবিধাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরটিভি/এসআর  
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে স্বামী বা স্ত্রীকে নতুন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের
মেট্রোরেলে নতুন ৩ রুট একনেকে অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো-এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) এবং এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি)। 
মেট্রোরেলে নতুন ৩ রুট একনেকে অনুমোদন
আরও পড়ুন
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, পাস হলো ৬ বিল
বিএনপির মনোনয়ন পাননি বেবি নাজনিন
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের ফরম নিলেন ফারাজানা সিঁথি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার