বিএনপির নব নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথগ্রহণের জন্য টেকনোক্র্যাট কোটায় ডাক পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক।
ঢাকা-১৬ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আমিনুল কিন্তু তিনি জয়ী হতে পারেননি। ঢাকা-১৬ আসনে তিনি হেরে যান জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী কর্নেল (অব.) মো. আবদুল বাতেনের কাছে।
নির্বাচনে হেরে গেলেও গত কয়েকদিন আমিনুলকে নিয়ে ছিল তুমুল গুঞ্জন। নির্বাচিত হতে পারলে নতুন সরকারে তিনিই হতেন ক্রীড়ামন্ত্রী, এতে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু তিনি হেরে যাওয়ার ফলে, নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে গুঞ্জনের ডালপালা গজাতে থাকে। আলী আসগর লবি থেকে শুরু করে অনেক নামই উঠে আসছিল সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার তালিকায়। আবার কেউ কেউ বলছিলেন আমিনুলকেই টেকনোক্র্যাট কোটায় ক্রীড়ামন্ত্রী করা হতে পারে। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
আমিনুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রটি আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, সকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে আমিনুলকে ফোন করে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন। যেখানে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮ আসন এবং ৯ আসন পেয়েছে তাদের শরিক দলগুলো। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয়ী হলেই সরকার গঠন করা যায়। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন করতে পারে একটি দল। বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে বইছে স্বস্তির সুবাতাস।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে নানা কারণ। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে দলের লাখো নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার, দলের অটুট ঐক্য, দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের সীমাহীন ত্যাগ।
তবে এ বিজয়ের পেছনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দলের কাণ্ডারি তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।
নির্বাচনি প্রচারে তার নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেননি, বরং দলকে দীর্ঘদিন পর একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিয়েছেন। এই রোডম্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
আরটিভি/এমএইচজে




