ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যে কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

এক সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে তুলনামূলক কম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খুলনাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-তাত্ত্বিক বাস্তবতার পাশাপাশি দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার কিছু আগে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকা। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসেই সাতক্ষীরায় দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। এছাড়া স্বল্পমাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্পের উৎস ছিল যশোরের মনিরামপুর ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা। ফলে আগে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-তাত্ত্বিক বাস্তবতার কারণেই এই অঞ্চলে নতুন করে ভূমিকম্পের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। খুলনা আবহাওয়া অফিসের সাবেক সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, দেশের পূর্ব প্রান্তে ভারতীয় প্লেট এবং পশ্চিম প্রান্তের অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক প্লেটের পারস্পরিক চাপের প্রভাব দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও পড়ছে। এই বিপরীতমুখী চাপের কারণে ভূগর্ভে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে এবং তা সময়ে সময়ে ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।

তার ভাষ্য, ভূমিকম্পের উৎপত্তি সব সময় বড় কোনো ফল্ট লাইনের ওপর নির্ভর করে না। নতুন ক্ষুদ্র ফাটল তৈরি হওয়া কিংবা আগে নিষ্ক্রিয় থাকা ফাটল পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

ঝুঁকি বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দ্রুত নগরায়ন। বিশেষ করে খুলনা শহরে গত দুই দশকে বহুতল ভবনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গত ২৬ বছরে খুলনা শহরের জলাভূমি কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ এবং সবুজায়ন কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। একই সময়ে বসতি ও স্থাপনা বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন না হলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা ও বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। তদারকির ঘাটতির কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বা অননুমোদিত ভবন নির্মাণের ঘটনাও ঘটে।

তার মতে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। এজন্য বিস্তৃত ভূতাত্ত্বিক গবেষণা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র প্রণয়ন, কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অন্যদিকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) বলছে, তারা বিল্ডিং কোড মেনেই ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিচ্ছে। কেডিএ’র পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, অনেক সময় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করার প্রবণতা দেখা যায়। তাই শুধু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নয়, নগরবাসীর সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নির্মাণের শুরু থেকেই নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা এবং নগরবাসীকে সচেতন করার উদ্যোগও বাড়ানো হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে অনুভূত হওয়া স্বল্প ও মাঝারি মাত্রার মোট ৯টি ভূমিকম্পের মধ্যে ৪টির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা অঞ্চলে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এখনই যথাযথ গবেষণা, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং কঠোরভাবে নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্প এ অঞ্চলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ
তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ
ড. ইউনূসকে হয়রানি, নিন্দা জানালেন ১২ সাবেক উপদেষ্টা
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার, হয়রানি ও ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ সাবেক উপদেষ্টা। তারা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও অনলাইন হয়রানির মাধ্যমে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার ভেঙে দেয়া যাবে না।
ড. ইউনূসকে হয়রানি, নিন্দা জানালেন ১২ সাবেক উপদেষ্টা
বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে তারা অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী
দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আসছে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ: রেলমন্ত্রী
‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই গুরুত্বপূর্ণ’
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই গুরুত্বপূর্ণ’
আরও পড়ুন
৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা
জাপানে হঠাৎ জোড়া ভূমিকম্প
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারত
দেড় ঘণ্টার মধ্যে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল