জাতীয় সংসদের সরকারি দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সরকার যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
গত দুই বছরে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের পলাতক থাকাসহ নানা কারণে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। জনসেবা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতেই অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা মার্কা না রাখার সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন চিফ হুইপ। তিনি মনে করেন, তারেক রহমানের মতো দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের শাসনব্যবস্থায় নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে মানুষকে চাকরি হারানোসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো।
সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় যে, অতি দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন এবং নির্বাচিত নেতারাই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন যে, বিচার বিভাগ আগাগোড়া স্বাধীন ছিল এবং এই স্বাধীনতার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবার সফল প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই। সেই সময়কার করা আইনের মাধ্যমেই বিচার বিভাগ পরবর্তীতে আরও স্বাধীন হওয়ার পথ খুঁজে পায়।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সেই সময়ে আমরা বিচারপতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মিছিল হতে দেখেছি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিচারকদের কোথায় লাঠি মারতে হয় তা জানার মতো ধৃষ্টতাও তখন দেখানো হয়েছিল। এছাড়া বিচারপতি সিনহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রয়োজনে একজনকে তৈরি করা এবং কাজ শেষে তাকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও তখন ঘটেছে।
চিফ হুইপ বলেন, মানুষ সাধারণত প্রতিকার পাওয়ার আশায় হাইকোর্টে যায়, কিন্তু বিগত সময়ে আমরা উল্টো চিত্র দেখেছি। আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া হাইকোর্টে যাওয়ার পর তার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলো। এমনকি আমাদের নেতা নিম্ন আদালতে সাজা না পেয়ে মুক্তি পেলেও, হাইকোর্ট সেই ফাইল তলব করে তাকে ১০ বছরের সাজা প্রদান করে। খেয়াল করার বিষয় হলো, এসব ঘটনার সময়ও বলা হতো বিচার বিভাগ স্বাধীন।
নুরুল ইসলাম বলেন, এই তথাকথিত স্বাধীন বিচার বিভাগের অধীনেই আমাদের ৬৪ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। এই সময়েই আমরা বিচারপতি খাইরুল হকের মতো ব্যক্তিদের দেখেছি, যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি মেরেছেন। এছাড়া এনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিদের শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের মতো আচরণ করতে দেখা গেছে। বিচার বিভাগের এমন স্বাধীনতা আমরা অতীতে প্রত্যক্ষ করেছি।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ যাতে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন থাকে এবং কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে সরাসরি দালালি না করে, সেজন্য বিচার বিভাগকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ যাতে বিচারকদের কাছ থেকে সঠিক বিচার ও সমর্থন পায়, সেই লক্ষ্যেই আইনটি সংস্কার করা হয়েছে।
মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মানুষ যেন বিচার বিভাগে গিয়ে ন্যায্য বিচার পায়। সেই ন্যায্য বিচার পাওয়ার জন্য যা করা দরকার, আমরা তা এই আইনের মাধ্যমে করেছি।
আরটিভি/এমআই




