ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বেড়েছে মৃৎশিল্পের কদর 

বাসস

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ছবি: বাসস

বছরজুড়ে মাটির তৈরি খেলনাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদা কম থাকলেও পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে এসব মাটির তৈরির খেলনা নিয়ে। বৈশাখি মেলাকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া, শোল্লা ও মানুরী গ্রামের মৃৎশিল্পী পরিবারগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরি করে নানান রঙে রাঙিয়ে তুলছেন তারা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের আঙিনায় নারী-পুরুষ সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটি দিয়ে গড়ছেন পুতুল, কেউবা গড়ছেন হাঁড়ি-পাতিল। রোদে শুকিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে নিপুণ তুলির আঁচড়ে রঙিন করা হচ্ছে এসব পণ্য। বৈশাখি মেলায় এসব পণ্য বিক্রি করে বছরের আয় তুলবেন তারা।

মৃৎশিল্পী নয়ন পাল, জবা পাল, সেটু পাল ও অর্পিতা পাল জানান, তারা সারা বছরই এই কাজ করেন। তবে নববর্ষের সময় ব্যস্ততা একটু বেশি থাকে। নববর্ষ উপলক্ষে বেচাকেনা বাড়লে সারা বছরের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

একই এলাকার মিন্টু, ঝন্টু ও বিকাশ পাল জানান, পৈতৃক পেশা ধরে রাখার জন্য এখনো এই শিল্পটি টিকিয়ে রেখেছেন তারা। অর্থ সংকটের কারণে অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা যাবে।

আরও পড়ুন

শোল্লা এলাকার মৃৎশিল্পী মিঠু পাল বলেন, প্লাস্টিক পণ্য বাজার দখল করে নিয়েছে। অথচ প্লাস্টিক ব্যবহারে মানবদেহে নানা রোগ হতে পারে। আমাদের মাটির পণ্য স্বাস্থ্যসম্মত। সরকার মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়ালে এবং এর প্রচারণা বাড়লে মৃৎশিল্প যেমন টিকে থাকবে। মানুষের স্বাস্থ্যেরও কম ক্ষতি হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি পরিবারকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেন্টু কুমার বড়ুয়া বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বলতে মৃৎশিল্পীদের জন্য আলাদা করে কোনো প্রণোদনা নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তাদের প্রণোদনা দেওয়া যাবে।

মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রাচীন শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব। বাংলা নববর্ষের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে সামনে রেখে মাটির পণ্যের চাহিদা বাড়লেও, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অনেকটা অনিশ্চিত।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৫ নভেম্বর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র দ্বিতীয় আসর নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এই ঘোষণা দিয়েছেন।  ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক,  ৫০৩টি উপজেলার ইউএনসহ জেলা ক্রীড়া অফিসার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সকলের সাথে আলোচনা করে নতুন কুঁড়ি কার্যক্রম বাস্তবায়নের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হয়েছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আসর। যে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নতুন কুঁড়ি শুরু করেছিল প্রথম আসরের পরে সেই কার্যক্রমে অনেকটাই সফলতা এসেছে বলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় গতানুগতিক ধারায় কোন টুর্নামেন্ট শেষ হলো, এরপর আর সেই খেলোয়াড়দের খুঁজে পাওয়া যায়না। এটাই ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তব চিত্র ছিল। তিন  আরও বলেন, কিন্তু এখানে আমরা একটু ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি এবং এটাকে স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছি। প্রথম আসরের যে ৩১০ জন ক্রীড়াবিদ পেয়েছি, তাদেরকে নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের একটি ট্রেনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪০ দিনের এই ট্রেনিং সেশনের মধ্য থেকে যারা বিশেষ প্রতিভাবান তাদেরকে নির্বাচিত করে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি তারা যাতে পড়াশুনাও চালিয়ে যেতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধুমাত্র ঢাকার বিকেএসপি না অন্যান্য যে বিকেএসপিগুলো আছে, সেগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের ভেতরে অন্যান্য বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজ চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় আসরকে আরও একটু প্রসারিত করে ৪৫৯৯টি ইনিয়নের দল গঠনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১৬ লাখ ৩ হাজার। সেখানে র প্রায় ৯ লাখের কিছু বেশী কিশোর এবং ৬ লাখ কিশোরী রয়েছে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ কিশোর ও ৪২ শতাংশ কিশোরী এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে।  আমিনুল বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামী ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের যে অংশগ্রহণ, সেটিতে আরো অনেক বেশি অনেকেই উৎসাহিত হবেন, অনেক পরিবার তারা উৎসাহিত হবেন। তাদের হাত ধরে যে আমার বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে, সেই আশার আলো সেই সকল পরিবার দেখতেই পারে। প্রথম আসরের সাথে আরও দুটি ইভেন্ট এবার যুক্ত হয়েছে- টেবিল টেনিস ও ভলিবল। সব মিলিয়ে ১০টি ইভেন্ট নিয়ে দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগের ইভেন্টগুলো হলো- এ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি। রোজা, ঈদ ও স্কুলের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা পরিচালিত হবে। নতুন কুঁড়ির ক্যালেন্ডার সেভাবেই সাজানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যে দ্বিতীয় আসরে জাতীয় পর্যায়ের খেলার আগামী বছর এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের শুরুতে আয়োজন করতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আরটিভি/টিআর
৫ নভেম্বর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
২০২৭ সালের মধ্যে প্রণয়ন হবে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন: সড়কমন্ত্রী
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান তিনি।
২০২৭ সালের মধ্যে প্রণয়ন হবে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন: সড়কমন্ত্রী
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তাটি শেয়ার করা হয়েছে। 
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ঢেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি। 
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আন্তরিক: ডেপুটি স্পিকার 
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আন্তরিক।
বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আন্তরিক: ডেপুটি স্পিকার 
আরও পড়ুন
সেনবাগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
মেলার অপেক্ষায় পাইকগাছা কুমারপাড়া, রং-তুলিতে প্রাণ ফিরছে মৃৎশিল্পে
চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে শিল্পকলায় ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি 
বাংলা নববর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ