ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ‘পরিবেশ পুলিশ’ গঠনের উদ্যোগ

বাসস

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
পুলিশ সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ খাতে অপরাধ প্রতিরোধে একটি বিশেষায়িত পরিবেশ পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রণীত এ প্রস্তাবটি আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, রোববার (১৯ এপ্রিল) পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে নতুন এই পুলিশ ইউনিট গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রস্তাবিত ইউনিটের লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত অপরাধ, যেমন- নদী দখল, শিল্প-কারখানার দূষণ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ মোকাবিলা করা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের অপরাধের ব্যাপ্তি ও জটিলতা এতটাই বেড়েছে, তা প্রচলিত পুলিশ ব্যবস্থার সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাই একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হলে পরিবেশগত অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে, বিদ্যমান আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হবে এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।

দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে পরিবেশগত দুর্যোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ইউনিট নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, পরিবেশগত আইন লঙ্ঘনের নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে নদী দূষণ, অবৈধ পাহাড় কাটা ও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধসহ পরিবেশগত বিভিন্ন সংকট বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। কারণ বর্তমানে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা প্রচলিত পুলিশ বাহিনী এসব সমস্যা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষায়িত পুলিশ বা ইকোলজিক্যাল পুলিশ ইউনিট গঠন করেছে। এসব ইউনিট অবৈধভাবে বন উজাড়, বন্যপ্রাণী পাচার, দূষণ ও খনন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

মঙ্গোলিয়া ২০১৭ সালে গোবি মরুভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি ইকোলজিক্যাল পুলিশ ইউনিট গঠন করে। রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় দূষণ, নির্গমন, জলাভূমি ও বন রক্ষায় পরিবেশ পুলিশ কাজ করছে। শ্রীলঙ্কায় অবৈধ বর্জ্য ফেলা ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হয়। নরওয়েতে পরিবেশগত অপরাধ দমনে বিশেষায়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠন ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। তবে পরিবেশ রক্ষায় সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ২০২৩ সালের হালনাগাদ বিধিমালা ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু বিশেষায়িত প্রয়োগকারী ইউনিট না থাকায় এসব আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না এবং প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের (এনআরসিসি) সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) মো. আশরাফুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, একটি পৃথক পুলিশ ইউনিট গঠন নদী ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। তবে নদী দখল ও দূষণ রোধে তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি কাজ করছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জরিপের বরাত দিয়ে তিনি জানান, দেশে মোট ১ হাজার ৪১৫টি নদী রয়েছে, যার মধ্যে ৮০০টিরও বেশি নদী দখল ও দূষণের হুমকিতে রয়েছে।

হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনার কারণে নদী ও খাল দখল হয়ে আছে। অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য, ট্যানারি বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশন সরাসরি জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যা জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বন উজাড়ও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম এবং অবৈধ কাঠ কাটার পাশাপাশি ভূমি দখল ও কৃষি সম্প্রসারণের কারণে তা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড় কাটা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। যার ফলে প্রতিবছর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

বায়ুদূষণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিশেষ করে ইটভাটার কারণে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে। দেশে ৭ হাজারের বেশি ইটভাটা রয়েছে, যার অনেকগুলোরই পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। নিম্নমানের জ্বালানি ও পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এসব ভাটা শুষ্ক মৌসুমে শহরাঞ্চলে মারাত্মক বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনও একটি পরিবেশগত গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দারিদ্র্য, বিকল্প জীবিকার অভাব এবং স্বল্প শিক্ষা কার্যকর জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে, যা আইন প্রয়োগকে আরও জরুরি করে তুলছে।

দেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ বিদ্যমান থাকলেও যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেক অপরাধী দায়মুক্তি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকরা পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ পরিবেশ পুলিশ ইউনিট গঠনের পক্ষে মত দিচ্ছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
একদিনে দেশের তিনটি বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি। এ সফর ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
একদিনে ৩ বিভাগ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন ৫০ সেনা
হাইতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (জিএসএফ) যোগ দিতে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের ৫০ সদস্য।
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়লেন ৫০ সেনা
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ কথা জানান। তিনি জানান, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সহকারী প্রেস সচিব জানান, জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগান পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দেন। এছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব স্থানে সংস্কার দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক আরও জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি। আরটিভি/টিআর
সংসদ ভবন এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন
পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতু নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সেতুটির সর্বশেষ কংক্রিট ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ডেক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পথ আরও সুগম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা সেতুটি চালু হলে রাবনাবাদ নদীর তীরবর্তী চরিপাড়ায় অবস্থিত পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে খালাস করা পণ্য সরাসরি সড়কপথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরাও সরাসরি সড়কপথে বন্দরে যাতায়াত করতে পারবেন। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায় যে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরের আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব শিল্পকারখানায় বন্দরের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে  বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত করা হবে।এর ফলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পাশাপাশি বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে টার্মিনাল এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের মাত্র কয়েক দিন আগেই পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিগত ৭ অক্টোবর সকালে চীনের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ফান ঝৌ-৬ (Fan Zhou-6) সরাসরি প্রথম টার্মিনালে নোঙ্গর করেছে। জাহাজটিতে আধুনিক পণ্য ওঠানো-নামানোর পাঁচটি সরঞ্জাম আনা হয়েছে। দুই বছর পর এই প্রথম টার্মিনালে বড় ধরনের পরিচালন সরঞ্জাম পৌঁছাল।  নদীর উপযোগী বিশেষ নকশায় নির্মিত সেতু আন্ধারমানিক নদীর উপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৮০ মিটার। এক্সট্রাডোজড প্রযুক্তিতে নির্মিত সেতুটির টাওয়ারের উচ্চতা ৫৮ দশমিক ৫ মিটার। সেতুর মূল ডেকের প্রস্থ ২৩ দশমিক ২ মিটার এবং সংযোগ ডেকের প্রস্থ ২১ দশমিক ২ মিটার। সেতুতে প্রতিটি দিকে দুটি করে মোট চারটি লেন রয়েছে । আন্ধারমানিক নদীতে নৌযান চলাচল সব সময় সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি মাত্র দুটি প্রধান পিলারের ওপর নির্মাণের নকশা করা হয়েছে। ফলে জাহাজ ও লঞ্চের নির্বিঘ্ন চলাচলের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও ঠিক থাকবে। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পাইল স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি) এবং চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) যৌথভাবে সেতুটি নির্মাণ করছে। নির্মাণকাজ তদারকি করছে একটি কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। নতুন সম্ভাবনার প্রতীক  নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে পৌঁছানোয় সেতুটি স্থানীয় মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা নির্মাণস্থলের পাশের ছয় লেনের সড়কে জড়ো হচ্ছে নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণ অগ্রগতি দেখতে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, রাতে সেতুটিতে এমনভাবে আলোকসজ্জা করা হবে, যাতে তা শাপলা ফুলের আকৃতি ফুটিয়ে তোলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি শুধু যান চলাচলের সুবিধা বাড়াবে না; পায়রা বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় পরিবহন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং বন্দরের কার্যক্রম ও সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সেতুটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।  আরটিভি/টিআর
পায়রা বন্দরে আন্ধারমানিক নদীর ওপর সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘অধ্যক্ষ সম্মেলন-২০২৬’। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অধ্যক্ষ সম্মেলন ২৯ নভেম্বর, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
এবার বাংলাদেশি দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ
কেন্টাকিতে ৭ শিশুর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৮
ফ্লোরিডায় ১৫ বছর পর নিখোঁজ বাগদত্তাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হবু স্বামী
আহত পুলিশ পরিদর্শককে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী