ডাক পাঠালো ফায়ার সার্ভিস

গভীর কূপে পড়ে যাওয়া শিশু উদ্ধারে তারা মিয়ার অভিনব খাঁচা

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:২৮ এএম


গভীর কূপে পড়ে যাওয়া শিশু উদ্ধারে তারা মিয়ার অভিনব খাঁচা
ছবি: সংগৃহীত

গভীর নলকূপ বা সরু গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত ও জীবিত উদ্ধারের লক্ষে অভিনব এক খাঁচা তৈরি করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছেন নাটোরের কৃষক তারা মিয়া।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে তার এই উদ্ভাবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন ও প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল। পরীক্ষায় প্রাথমিক সাফল্য পাওয়ায় উন্নত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উদ্ভাবক ও তার তৈরি খাঁচাটি ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মঞ্জিল হকের নেতৃত্বে একটি দল নাটোর সদর উপজেলার তারা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে উদ্ভাবনটি পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় খাঁচাটিতে সার্চ ভিশন ক্যামেরা ও লাইট যুক্ত করে একটি কৃত্রিম উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি গর্তে ১১ কেজি ওজনের গাছের গুঁড়ি ফেলে সেটি খাঁচার মাধ্যমে মাত্র দুই মিনিটে উপরে তোলা হয়।

পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও কলের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন)। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তারা মিয়াকে তার উদ্ভাবনসহ ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে আরও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিটি মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় মনে হয়েছে এই প্রযুক্তিটি গভীর গর্তে পড়া শিশু উদ্ধারে কার্যকর হতে পারে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানিয়েছি। তারা মিয়ার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। এটিকে আরও আধুনিকায়ন করে কীভাবে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করা যায়, আমরা এখন সেই চেষ্টাই করছি।

নিজের উদ্ভাবন নিয়ে কৃষক তারা মিয়া বলেন, টেলিভিশনে প্রায়ই দেখি গভীর গর্তে পড়া শিশুদের উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়। অনেক সময় দেরি হওয়ার কারণে শিশুদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। সেই দৃশ্যগুলো দেখে আমার মনে হয়েছে, এমন কিছু তৈরি করা দরকার যা দিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করা যায়। আজ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এসে আমার এই খাঁচা দেখে খুশি হয়েছেন এবং আমাকে ঢাকায় ডেকেছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমার এই ক্ষুদ্র চেষ্টা হয়তো ভবিষ্যতে অনেক শিশুর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission