তৈরি হচ্ছে ৮০ লাখ লোকের তালিকা, নোটিশ দিবে এনবিআর 

আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:১৬ পিএম


তৈরি হচ্ছে ৮০ লাখ লোকের তালিকা, নোটিশ দিবে এনবিআর 

দেশে প্রায় ৮০ লাখ ইটিআইএনধারী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি এখনও। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের তালিকা তৈরি করে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। 

রোববার (২৬ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী আছেন। সেখান থেকে হয়তো ৫০ লাখের মতো রিটার্ন পড়বে। যারা রিটার্ন দেন নাই, ই-টিআইএন ডাটাবেজ এবং ই-রিটার্ন ডাটাবেজ আমাকে অটোমেটিক্যালি লিস্ট তৈরি করে দেবে কারা রিটার্ন দেয়নি অর্থাৎ নন-ফাইলার। আমরা অটোমেটেড বেসিসে এই নন-ফাইলারদের লিস্ট থেকে তাদের কাছে নোটিশ যাবে। এরপরও যদি রিটার্ন না দেন তাহলে ইন্সপেক্টর যাবে, সে তার আয়-ব্যয় হিসাব করে দেখবে।

তিনি বলেন, আমরা অডিট সিস্টেমটাকে স্বচ্ছ করার জন্য আমরা ম্যানুয়াল সিলেকশন পদ্ধতি টোটালি স্টপ করে দিয়েছি। এখন রিস্ক বেসড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ এর জন্য প্রথম পর্যায়ে আমরা ১৫ হাজারের মতো র্যান্ডম সিলেকশন করেছিলাম। সেকেন্ড ফেজে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি সিলেকশন হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ম্যানুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন নেই, এটি টোটালি সিস্টেম জেনারেটেড। ফলে ট্রান্সপারেন্সি এনশিওর হবে।

অন্যদিকে ভ্যাটের অডিট সিস্টেমের বিষয়ে আবদুর রহমান বলেন, ভ্যাটের ক্ষেত্রেও আমরা ২০টি ক্রাইটেরিয়া দিয়ে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করেছি। লার্জ ট্যাক্সপেয়ারদের জন্য জয়েন্ট অডিট শুরু করেছি যেখানে ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স টিম একসঙ্গে অডিট করবে। আমাদের দেশে রিটেইল লেভেলে ভ্যাটের আওতা খুবই ছোট। বর্তমানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ৮ লাখেরও কম, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আইনে কিছু পরিবর্তন এনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, যারা নতুন ভ্যাটে আসবে, তাদের লাইফ ইজি করার জন্য আমরা কাজ করছি। তাদের হয়তো প্রতি মাসে রিটার্নই সাবমিট করতে হবে না; বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট দিলেই হবে। তারা মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভ্যাট দিতে পারবে। কেউ তাদের কাছে খাতা-পত্র বা কম্পিউটার নিয়ে আসবে না। কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি এবং বন্ডের মিসইউজ রোধ করতে আমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটকে ট্র্যাক এবং ট্রেস করতে চাই। কিউআর কোড এবং এআর কোড জেনারেট করে স্ট্যাম্পের মতো লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে টোব্যাকো দিয়ে শুরু করলেও পরে পানির বোতল, ড্রিঙ্কস, সাবান, শ্যাম্পু এমনকি চিপসের প্যাকেটেও এটি চালু হবে।

সাধারণ মানুষকে হুইসেল ব্লোয়ার উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ১৮ কোটি জনগণের ৩৬ কোটি চোখকে ব্যবহার করবো কর ফাঁকি উদ্ধারে। সাধারণ মানুষ মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখবে পণ্যটি ট্যাক্স দিয়ে বাজারে এসেছে কি না। তারা যদি হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে তথ্য দেয়, তবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং ফাঁকিদাতাদের পেনাল্টি দেওয়া হবে।

একটি ট্রান্সপারেন্ট সিস্টেম তৈরি হলে ট্যাক্সপেয়ারদের হয়রানি কমবে এবং ট্যাক্স নেট বড় হবে, যার ফলে কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ারদের ওপর চাপ কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission