দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে প্রায় ১৫ লাখ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বড় ধরনের সুফল পেতে যাচ্ছেন পেনশনভোগীরাও। বিশেষ করে চিকিৎসা ভাতা এবং মাসিক পেনশনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। পুনর্গঠিত পে-স্কেল কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক সুপারিশ তৈরির কাজ শুরু করেছে যা দ্রুতই সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে।
নতুন এই সুপারিশে পেনশনভোগীদের মাসিক ভাতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদের বর্তমান মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে তাদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে যাদের পেনশন তাদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে অবসরে থাকা কয়েক লাখ বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
পেনশনভোগীদের জন্য এবারের পে-স্কেলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে বিশেষ চিকিৎসা ভাতা। বয়সের ওপর ভিত্তি করে তিনটি স্তরে এই ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পাবেন। এছাড়া ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের নিচে বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন কাঠামো সাজানো হয়েছে।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারি বাজেটের ওপর চাপ বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা মনে করছেন ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করলে বাজারে আকস্মিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ কম থাকবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এর প্রথম ধাপের সুবিধা পাওয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১০ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবিতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও আন্দোলন চলে আসছিল। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুনর্গঠিত কমিটি সব দিক বিচার বিশ্লেষণ করে এমন একটি বেতন কাঠামো দাঁড় করাতে চাইছে যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়লে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। স
আরটিভি/এআর




