ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাওরের সমস্যা চিহ্নিত করতে স্পেশাল ট্রাস্কর্ফোস গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
বক্তৃতা দিচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল : ছবি আরটিভি

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চল ঘিরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, হাওরের মানুষ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও যুগের পর যুগ অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। কিন্তু যারা হাওরাঞ্চল নিয়ে কাজ করছেন তারা কতটুকু করবেন তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। কেননা হাওরাঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক সময় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সংসদদের সঙ্গেও আলোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করেন না সংশ্লিষ্টরা। এ সময় তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবীকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নাই বিবেচনায় নিয়ে একটি ‘স্পেশাল ট্রাস্কফোর্স গঠন করার আহ্বান জানান।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হাওরের দুর্যোগ : ‘চাষাভুষার সন্তান’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা।

আরও পড়ুন

সংগঠনের সভাপতি রফিক মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শহীদুল্লাহ ফরায়জী, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ তালুকদার, মাসুদ করিম, রাজন ভট্টাচার্য ও বাহরাম খান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কায়েস আজাদ আশরাফী প্রমুখ। সেমিনারে কী-নোট উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ মোফাজ্জল।

কায়সার কামাল বলেন, আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা হাওরের মাঝখানে। ছোট বেলা থেকেই আমি হাওরের মানুষের কষ্ট, সংগ্রাম ও বঞ্চনার চিত্র কাছ থেকে দেখে আসছি। আমাদের কৃষক ও চাষীরা প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যখন ক্ষতি হয় তখনেই শুধু হাওর নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ যা থাকে অনুপস্থিত।

নিজেকে কৃষকের সন্তান দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, চাষাভুষার সন্তান গ্রন্থে হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং দুর্যোগের বহুমাত্রিক প্রভাব অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে উঠে এসেছে। এই ধরণের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হাওরাঞ্চলে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কায়সার কামাল বলেন, লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি হাওরের সম্পদ দখল করছে। এতে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিলের মধ্যে বড় গর্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হাওরের কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। আবার লিজ ব্যবস্থার কারণে মাছ ধরার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। এসব বৈষম্যের তিনি নিজেও সাক্ষী।

তিনি বলেন, এখন আবার নতুন আরেকটা কথা চালু হয়েছে। যেমন আমার কিছু কিছু এলাকায় আছে ৪৩ কেজি তে মন। এটা অনেকে হয়ত বুঝেন না। কৃষকের ধান ৪৩ কেজি নিচ্ছে। মজুদদার কিন্তু ওটাকে ৪০ কেজিতে এক মণ হয় ৪০ কেজি দাম দিচ্ছে। এই যে কৃষকদের উপরে একটা সিস্টেমেটিক্যালি অত্যাচার করা হচ্ছে, নিপীড়ন করা হচ্ছে সেই জিনিসগুলা জাতীয়ভাবে এড্রেস হচ্ছে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন; সকলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যদি আমরা কাজ করি তাহলে আমাদের নিজেদের জন্য যতটুক না পারি আমাদের সন্তানদের জন্য আগামী একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

আরও পড়ুন

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ড. আনোয়ারুল হক বলেন, হাওর জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ে। তাই হাওর রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ সময় তিনি হাওর অধিদপ্তরের কাজের সমালোচনাও করেন।

তিনি বলেন, হাওরে যত উন্নয়ন হয়েছে বাস্তবিক অর্থে উন্নয়নের নামে ক্ষতি সাধন হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা গেছে শুধুমাত্র হাওরাঞ্চলের রাস্তা মেরামতে। বিগত সময়ে হাওরের উন্নয়ন সাধনে লুটপাট হয়েছে; হাওরবাসীর কোনো উন্নয়ন হয়নি।

লেখক ও অর্থনীতি অধ্যাপক আনু মুহম্মদ বলেছেন, ব্যক্তি স্বার্থে উন্নয়ন যদি সামষ্ঠিক ক্ষতি হয় সেই উন্নয়ন রাষ্ট্রের কোনো মঙ্গল আনে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি হাওরাঞ্চলে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছে তা জীববৈচিত্র্যর জন্য বর্তমানে ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

হাওরাঞ্চলে ফসলহানি বা মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকে আনু মুহাম্মদ কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখেন না। তার মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, ভুল কৃষিনীতি, অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নির্বিচার উন্নয়নের ফলে এই সংকটগুলো তৈরি হয়। হাওরের ফসল রক্ষার জন্য প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাঁধগুলো স্থায়ী হয় না। সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং নিম্নমানের কাজের ফলে অকাল বন্যায় কৃষকদের বোরো ফসল তলিয়ে যায়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ডের কারণে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মাছ এবং দেশীয় জলজ সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় হাওরের নদী খনন করা, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, স্থানীয় কৃষকদের যুক্ত করে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার তদারকি করা এবং হাওরের বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা জরুরি।

গীতিকবি ও রাষ্ট্রচিন্তক শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, আমরা দীর্ঘ ৫৫ বছরে সরকার পেয়েছি; দলীয় সরকার কিন্তু জনগণের সরকার পাইনি। রক্ত দেয় জনগণ আর সরকার হয় কোনো একটি দল। যাকে সম্মান করা যাকে মাথায় তুলে রাখা সেই কৃষককে আমরা পায়ের নিচে মেরে দিচ্ছি। এমন রাষ্ট্রের জন্য তো ৭১, ৯০ এবং সবশেষ ২০২৪ সালে গণঅভ্যুস্থানে জনগণ রক্ত দেয়নি। আমাদেরকে এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে হবে যেখানে উৎপাদনমুখী সমাজ ও সংস্কৃতি বিকশিত হবে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বক্তারা হাওর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিও জানান। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বিজ্ঞানভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘পোশাকশ্রমিক-হকারদের মাঠে নামিয়ে ভয়ংকর ছক কষছে নিষিদ্ধ আ.লীগ’
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। তবে আগাম তথ্য থাকার পরও সরকার কার্যকর প্রস্তুতি নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য- এরকম খবর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশের প্রায় সব পত্রিকার প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে।
‘পোশাকশ্রমিক-হকারদের মাঠে নামিয়ে ভয়ংকর ছক কষছে নিষিদ্ধ আ.লীগ’
‘কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে অবশ্যই সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব।  তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করে। বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর এবারের মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। ফলে চলমান জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো,  জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা  এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এসব বিষয়গুলো নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন সরকার সেটি নিশ্চিত করতে চায়। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু একটি সম্ভাবনাময় খাতই নয় বরং এক অনিবার্য বাস্তবতা। দেশের জ্ঞানের প্রতিযোগিতা চলমান রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কয়েকটি বিষয়ে কয়েকজন তাদের ইনোভেটিভ আইডিয়া উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হলেন। আগামীর বাংলাদেশে এভাবে জ্ঞানের প্রতিযোগিতা চলুক। চলুক নিত্য নতুন উদ্ভাবনী আইডিয়ার প্রতিযোগিতা। একটি ইনোভেটিভ আইডিয়া বাংলাদেশের জন্য হতে পারে গেইম চেঞ্জিং। তিনি বলেন, ‘অর্থের অভাবে যাতে তারুণ্যের কোনো উদ্ভাবনী আইডিয়া হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে বর্তমান চলতি বাজেটে ‘স্টার্ট আপ’ এর জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন, দেশটাকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার কারণে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশেকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ডিজেলের মজুদ বাড়িয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যেই ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে  আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যায়, বাসা-বাড়ি এবং ব্যবসা বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বর্তমান সরকারের কাছে সেটিই প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতোমধ্যেই ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতি সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নিয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই সরকার জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎযুক্ত করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পর যারা বাড়তি সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রণোদনাসহ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে ক্রয় করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। আমি নিজেও আমার বাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি। ইতোমধ্যেই আমার বাসায় ব্যবহারের পর বিদ্যুতের কিছু অতিরিক্ত ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছি।  তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতির দাম কমানো হচ্ছে। জনগণের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুতের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার। সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্পৃক্ত সার্ভিস প্রোভাইডারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহক প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, অনুগ্রহপূর্বক সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে, দয়া করে আপনারা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রতি আন্তরিক থাকুন । কৃষিতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সরকার পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত সেচ পাম্পে রূপান্তর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের দায়,  অপরদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। তাই সবার প্রতি অনুরোধ, দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস উপভোগের পাশাপাশি বাসা অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাল্ব, ফ্যান অথবা নানারকমের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বন্ধ রাখুন। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে দেশটির উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্পে নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দ্বারা সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আপনাদের সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও বিনিয়োগের সহজ সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে বিজয়ীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সোলার সিস্টেম নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এ সময়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/আইএম
‘কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব’
তিন মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের ৫ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায়
চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সারাদেশে ৫ হাজার ৯৭টি বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করে ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে অধিদপ্তর।
তিন মাসে ভোক্তা অধিদপ্তরের ৫ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায়
রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করছে।
রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। 
আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন
আমরা মাফিয়া ডন বানাব না: ডেপুটি স্পিকার
‘বৃক্ষ হত্যাকারীদের’ ধরতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিলেন ডেপুটি স্পিকার
শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষার গুণগত ও মানবিক উন্নয়ন করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার 
ভারতে স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস নেতাকে ছেলেসহ কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা