ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশে ‘জিন পুল’ গঠন জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
ছবি: বাসস

জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি-ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে দেশে জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জিন পুল প্রতিষ্ঠা করা উচিত।’

জীববৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জিন পুল হলো কোনো নির্দিষ্ট আন্তঃপ্রজননক্ষ প্রাণী, উদ্ভিদ বা কীটপতঙ্গের সব ধরনের জিনগত উপাদান অর্থাৎ সব জিন ও তাদের বিভিন্ন রূপের (অ্যালিল) সমাহার।

তিনি বলেন, জিন পুল একটি প্রজাতির সামগ্রিক জিনগত বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (স্পিসিজ অ্যান্ড হ্যাবিট্যাটস) এবিএম সরওয়ার আলম বলেন, দেশের জীববৈচিত্র্য নানা হুমকির মুখে এবং অনেক প্রজাতি সংকরায়নের শিকার হওয়ায় বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গ সংরক্ষণে জিন পুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেছো কুমির বা ঘড়িয়াল (গ্যাভিয়ালিস গ্যাঙ্গেটিকাস)-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে ঘড়িয়াল পাওয়া গেলেও ভারত এটিকে নিজেদের প্রজাতি বলে দাবি করে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি জিন পুল থাকত, তাহলে আমরা বলতে পারতাম এ প্রজাতিটি আমাদের কি না।’

বাংলাদেশে দ্রুত আবাসস্থল ধ্বংস, শিল্প দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, যা বহু প্রজাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করছে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর ১৫৬টি প্রজাতি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস ও অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ জীববৈচিত্র্যের প্রধান হুমকি। সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলে মাছ ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইশতিয়াক উদ্দিন বলেন, মানুষের কর্মকাণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন প্রজাতি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জনবল, আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দেশে বন ধ্বংস ও বনাঞ্চলের অবক্ষয় চলছেই।

বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ‘সন্দেহজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এখনও পরিণত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি সম্পৃক্ততায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে স্থানীয় মানুষ বন রক্ষায় এগিয়ে আসে।’

স্থানীয় জনগণকে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনামূলক কর্মসূচি চালু এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে মনোকালচার সীমিত করার পরামর্শ দিয়ে ইশতিয়াক উদ্দিন বলেন, ‘মনোকালচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে, তবে চাহিদা অনুযায়ী এটি সীমিত রাখতে হবে।’

আগামীকাল (২২ মে) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস’ পালিত হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব’, যা কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরছে। একই সঙ্গে এটি কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্কের ২৩টি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগের সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরটিভি/এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার’
বুধবার (২১ অক্টোবর) কক্সবাজারের লিংক রোড সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত বায়োগ্যাস প্লান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ পরিকল্পনার কথা জানান।
‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্লান্ট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার’
১৩ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার
দেশে ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারের ভুলনীতি, রেল ও নৌপথ সংকুচিত করা এবং সড়কনির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থা দায়ী। মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে দেশের প্রধান যাতায়াতমাধ্যম ছিল নৌপথ, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রেলপথ। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এই দুই মাধ্যমে তখন ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত হতো। সড়কপথে যাতায়াত করতেন ২০ শতাংশ মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পর রেল ও নৌপথ সংকুচিত করে একের পর এক সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে মানুষের যাতায়াত সড়কনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ওপরও।’ সড়ক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, বেপরোয়া গতি এবং মাদক সেবন করে যানবাহন চালানোর মতো কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন সমিতির মহাসচিব। চালকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা যাচাইয়ে দুর্বলতা এবং অযোগ্য যানবাহনকে ফিটনেস সনদ দেয়ার বিষয়টিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন তিনি। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া বৃদ্ধি ও চলাচল, সড়কে ডিভাইডার না থাকা, গাছপালার কারণে বাঁকে দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির অভিযোগ, উন্নত গণপরিবহন ও সমন্বিত যাতায়াতব্যবস্থার অভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন, লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে। এতে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা—দুটিই বাড়ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপরিশ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করতে হবে। চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা দরকার। মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন চলাচল বন্ধ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠারও সুপারিশ করেছে সমিতি। আরটিভি/এমএ  
১৩ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার
সাত রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে
ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার।
সাত রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি
সিঁদুর খেলায় দুর্গার বিদায়, ‘আসছে বছর আবার হবে’
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।
সিঁদুর খেলায় দুর্গার বিদায়, ‘আসছে বছর আবার হবে’
আরও পড়ুন
পচা ডিমের জন্য বেকারিতে ছিল ‘বিশেষ ব্যবস্থা’, জরিমানা লাখ টাকা
বিপন্ন কালো রবিনই নিউজিল্যান্ডের ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার
কলা ঝুলিয়ে সংরক্ষণ করা জরুরি কেন
ডাবের পানি কতক্ষণ ভালো থাকে, জানুন সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম