জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশে ‘জিন পুল’ গঠন জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ১১:০৭ পিএম


জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশে ‘জিন পুল’ গঠন জরুরি: বিশেষজ্ঞরা
ছবি: বাসস

জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি-ভিত্তিতে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে দেশে জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জিন পুল প্রতিষ্ঠা করা উচিত।’

জীববৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জিন পুল হলো কোনো নির্দিষ্ট আন্তঃপ্রজননক্ষ প্রাণী, উদ্ভিদ বা কীটপতঙ্গের সব ধরনের জিনগত উপাদান অর্থাৎ সব জিন ও তাদের বিভিন্ন রূপের (অ্যালিল) সমাহার।

তিনি বলেন, জিন পুল একটি প্রজাতির সামগ্রিক জিনগত বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (স্পিসিজ অ্যান্ড হ্যাবিট্যাটস) এবিএম সরওয়ার আলম বলেন, দেশের জীববৈচিত্র্য নানা হুমকির মুখে এবং অনেক প্রজাতি সংকরায়নের শিকার হওয়ায় বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গ সংরক্ষণে জিন পুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেছো কুমির বা ঘড়িয়াল (গ্যাভিয়ালিস গ্যাঙ্গেটিকাস)-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে ঘড়িয়াল পাওয়া গেলেও ভারত এটিকে নিজেদের প্রজাতি বলে দাবি করে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি জিন পুল থাকত, তাহলে আমরা বলতে পারতাম এ প্রজাতিটি আমাদের কি না।’

বাংলাদেশে দ্রুত আবাসস্থল ধ্বংস, শিল্প দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, যা বহু প্রজাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করছে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর ১৫৬টি প্রজাতি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস ও অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ জীববৈচিত্র্যের প্রধান হুমকি। সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলে মাছ ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইশতিয়াক উদ্দিন বলেন, মানুষের কর্মকাণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন প্রজাতি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জনবল, আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দেশে বন ধ্বংস ও বনাঞ্চলের অবক্ষয় চলছেই।

বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ‘সন্দেহজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এখনও পরিণত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি সম্পৃক্ততায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে স্থানীয় মানুষ বন রক্ষায় এগিয়ে আসে।’

স্থানীয় জনগণকে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনামূলক কর্মসূচি চালু এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে মনোকালচার সীমিত করার পরামর্শ দিয়ে ইশতিয়াক উদ্দিন বলেন, ‘মনোকালচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে, তবে চাহিদা অনুযায়ী এটি সীমিত রাখতে হবে।’

আগামীকাল (২২ মে) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস’ পালিত হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব’, যা কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরছে। একই সঙ্গে এটি কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্কের ২৩টি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগের সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরটিভি/এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission