ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পুশইন ঠেকাতে জলসীমায় কঠোর নজরদারি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন কার্যালয়ের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেছেন, দেশে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে স্থলের পাশাপাশি জলসীমাতেও কঠোর নজরদারি অব্যহত থাকায় পুশইন অপচেষ্টা সফল হচ্ছে না। জলসীমার নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন ও সার্ভিলেন্স প্রযুক্তি।

‎শুক্রবার (১২ জুন) বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাতক্ষীরার মান্দারবাড়ি দিয়ে আগে পুশইনের ঘটনা ঘটায় সেখানেও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতের পুশইন চেষ্টায় অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দৃঢ়তার সঙ্গে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করছে। এরইমধ্যে জলসীমায় সক্রিয়তার কথা জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

‎সাংবাদিকদের জোনাল কমান্ডার মেসবাউল আরও বলেন, সুন্দরবনে ইলিশ-মাছ ধরার মৌসুম এবং মধু সংগ্রহের সময় দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এসব সময়ে বিপুলসংখ্যক জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তাদের লক্ষ্য করেই অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করে দস্যুরা। বর্তমানে সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত রয়েছে। ফলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও কমে এসেছে। তবে মৌসুম শুরু হলে দস্যুরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্টগার্ডের তৎপরতার কারণে দস্যুরা এখন আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তাদের চলাচল, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা কমে এসেছে।

‎তিনি আরও বলেন, এ চাপের মুখেই সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনীর’ প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণের পর অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। সমাজও তাদের সহজভাবে গ্রহণ করতে চায় না। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যার কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধের পথে ফিরে যায়।

আরও পড়ুন

‎কোস্টগার্ড জানায়, বর্তমানে সুন্দরবনে ছয় থেকে আটটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রতিটি বাহিনীতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ কিংবা ১২ জন সদস্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ছোট ছোট উপদল বা ‘ক্লোন’ বাহিনী তৈরি হয়। এসব বাহিনী মূলত জেলে ও মৌয়ালদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

‎ক্যাপ্টেন মেসবাউল বলেন, বনজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সরু খাল ও ন্যারো চ্যানেলকে আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে দস্যুরা। জোয়ারের সময় যেসব পথে নৌকা চলাচল করে, ভাটার সময় সেগুলোর অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে বড় বোট বা জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না। তবে বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব দুর্গম এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

‎‎এছাড়া অপহরণের ঘটনা বনের ভেতরে ঘটলেও মুক্তিপণের টাকা অনেক সময় মংলা, বরগুনা, পাথরঘাটা কিংবা খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাতবদল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই কোস্টগার্ড কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো মুক্তিপণের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে একাধিক সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। বনের ভেতরের দস্যুদের পাশাপাশি স্থলভাগে থাকা সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ সহযোগী চক্রের ইন্ধনেই মোংলায় জয়মনিঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

‎কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সুন্দরবনে পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি, ২৫০ রাউন্ড কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ককটেল, টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

‎তিনি আরও বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাতক্ষীরার মান্দারবাড়ি দিয়ে আগে পুশইনের ঘটনা ঘটায় সেখানেও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্পখাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্পখাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পাকিস্তানের শিয়ালকোটের খ্যাতনামা ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।  এ উদ্যোগের আওতায় টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি (এনএসপিপি) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির (বিসিএসএএ) সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির (সিসিএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে পাকিস্তান আগ্রহী।  তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসকরণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রেখেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আনারস ও চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ এসব পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে ‘পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টার’-এ প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির হাইকমিশনার। এছাড়া, বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।  এসময় দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।  এছাড়া তিনি জানান, ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহও প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, ১৪ বছর পর ঢাকা করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আরটিভি/এসআর
পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্পখাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির
রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরের সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, কোনো শিশু যেন টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রতিটি বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে কাজ করতে হবে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর( রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ৷  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাড়ি-বাড়ি গিয়ে টিকাদানের উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করে টিকার আওতায় আনতে হবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে টিকার গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রয়োগ পর্যন্ত টিকার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।  সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই। ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।  এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে নগরবাসী—সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও ১ লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী
সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন, বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তারেক রহমান এসব ব্যক্তির কাজের প্রশংসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’ হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাৎকালে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হলেন নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখা শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই তিনি লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে নতুন স্কুলভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব। অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অধিকাংশ গাছই এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সবার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আরটিভি/এসআর
ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী
স্পিকারের সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, উন্নয়ন সহযোগিতার ধারাবাহিকতা, গণতান্ত্রিক ধারা জোরদারকরণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্পিকারের সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ