ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মানুষের যখন মৌলিক অভাব থাকে, তখন জীবনধারণের তাগিদে দুর্নীতির দিকে ঝোঁকার একটি মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তব প্রবণতা তৈরি হয়, এটি সমাজ বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি নির্মম সত্য এবং তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো বা জাতীয় পে-স্কেল প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন করে সমন্বয় করা হয়নি এবং এই দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে সেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্রুত পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-উত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব-পুলিশ কিংবা কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের ওপর নির্ভর না করে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি, বাজার ব্যবস্থার দক্ষ পরিচালনা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাজারে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সামগ্রিক বাজার সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যবসায়িক অদক্ষতা দূর করা, অতিরিক্ত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যয় কমানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত কাঠামোগত সংস্কারগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির নানাদিক নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশের সামষ্টিক মূল্যস্ফীতির ওপর বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে, যার সঙ্গে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি যুক্ত হয়েছে। এর বাইরে দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি এবং বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক হারে অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোর তহবিলের ব্যয় বা কস্ট অব ফান্ড অনেক বেশি রয়েছে, যার সরাসরি ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রতিফলন পড়ছে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ও খুচরা বাজারের ওপর।

আরও পড়ুন

বিশ্ববাজারে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ার কারণেও দেশের বাজারে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বা কস্ট অব ডুইং বিজনেস কমাতে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা কিংবা আমদানি-রপ্তানির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেতে বাংলাদেশে বর্তমানে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যেখানে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অদৃশ্য ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের চড়া সুদের হার, দেশের বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত নানা ধাপের অতিরিক্ত খরচ এবং বিভিন্ন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার কারণে ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়, সেখানে সরকারের সরাসরি করার খুব বেশি কিছু থাকে না মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে যেসব কারণে ব্যবসার কৃত্রিম ব্যয় বাড়ে, সেগুলো শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা সহজীকরণের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত নিচের দিকে থাকায় এখানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেশি, যা আমূল পরিবর্তনের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমানোর ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কার্যকর রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পণ্যের মূল উৎস বা উৎপাদনস্থল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে নিয়মিত আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য ও সারসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা থাকতে হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত তিন মাসের অগ্রিম মজুত এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে তাৎক্ষণিক ক্রয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যেখানে বিশ্ববাজারের মূল্যের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত গুদাম ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত রাষ্ট্রীয় মজুত গড়ে তোলা গেলে আমদানি ব্যয় অনেক কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা আনা, আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বন্দরকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমানো গেলে সামগ্রিক ব্যবসার খরচ এবং পণ্যের পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি সচল ও স্থিতিশীল হতে দীর্ঘ সময় লাগবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং একে টেকসই ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নিতে সময় প্রয়োজন। আগামী অন্তত দুই বছর কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়কে এগিয়ে নিতে হবে এবং এরপর ধীরে ধীরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, যার সুফল হিসেবে চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে। বর্তমান সরকার অতীতে নেওয়া তথাকথিত বড় বড় ও অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পের মোহের বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করার দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি বা অর্থের সঠিক ব্যবহার কঠোরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতকে অর্থনীতির একটি নতুন ও শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে ১৬০ একর বিশাল জায়গাজুড়ে একটি বিশ্বমানের সমন্বিত ক্রিয়েটিভ সেন্টার গড়ে তোলার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, থিয়েটার, শিল্পকলা, আধুনিক ডিজাইন স্টুডিও, বিনোদন কেন্দ্র ও নানামুখী সৃজনশীল কার্যক্রমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল কেন্দ্রটি শুধু মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রই তৈরি করবে না, বরং সংস্কৃতিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও আয়মুখী শিল্পে রূপান্তর করে লাখো তরুণের কর্মসংস্থান ও পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অংশ হিসেবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালুর জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে এ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের কারণে তাঁর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মরহুম প্রধানমন্ত্রীর সেই অসমাপ্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালু করবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে কলেজটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ  সুরাইয়া জেরিন রনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ডায়ালাইসিস সেবার সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া নেফ্রোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে একটি মাল্টি-হেড মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা আরো ২০টি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, বগুড়া পুরো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।  এ কারণে এখানে ক্যানসার ও লিভারসহ জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি  বলেন, দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫টি হাসপাতালে এই সেবা চালু হয়েছে। বগুড়াসহ যেসব হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোকেও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদের বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।  আরটিভি/এসআর  
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জার্মানি যাওয়ার বড় সুযোগ! ফ্রিতে ভাষা শিক্ষা দিচ্ছে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
বর্তমান সময় অনেকেরই জার্মানি যাওয়ার আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু দেশটির ভাষা জানা না থাকার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ যেন অধরায় থেকে যায়। কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জার্মান ভাষা শেখারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাষা শেখা ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার সম্ভব হয় না তা। এবার সেসব প্রার্থীদের জন্য এল বড় সুখবর।
জার্মানি যাওয়ার বড় সুযোগ! ফ্রিতে ভাষা শিক্ষা দিচ্ছে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে 
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে 
গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়া, এ শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ বেশি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান। এ শিল্পের প্রতি তাই বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্পের উন্নয়নে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার পোশাক শ্রমিকদের দাবির প্রতি আন্তরিক। তাই দ্রুততম সময়ে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ফটোসাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এটি শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়, বরং তাদের অবদানের স্বীকৃতি, সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। বিপিজেএর নেতাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। বিপিজেএর কার্যালয় সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে যে ভবন বা জায়গা নিয়ে জটিলতা রয়েছে, সেটির প্রকৃত অবস্থা ও আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ আইন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা চলছে। সবার মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না। তিনি বলেন, আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা চাই, আইনটি যেন প্রকৃত অর্থেই সবাইকে সুরক্ষা দিতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চাই। মতবিনিময় সভায় বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ফটোসাংবাদিকদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও পেশাগত বাধার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন।    বিপিজেএ সভাপতি বলেন, ফটোসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, দেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের মাধ্যম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষ্য বহন করে তাদের তোলা ছবি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফটোসাংবাদিকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিত করা হলে ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ফটোসাংবাদিকরা গত দেড় দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নির্যাতন, হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা রাজপথে থেকে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন। তাদের তোলা ছবি দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও আন্দোলনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে নুরুদ্দিন আহমেদ, এবিএম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদল বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়া, এ শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ বেশি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ন্যানো ইউরিয়া বাঁচাবে ৯৫ শতাংশ উৎপাদন খরচ ও হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা
দেশে উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট প্রাপ্তি টেকসই কৃষি ও গ্রিন টেকনোলজির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব ‘গেম-চেঞ্জার’ যুগের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।
ন্যানো ইউরিয়া বাঁচাবে ৯৫ শতাংশ উৎপাদন খরচ ও হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা
আরও পড়ুন
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তির পথে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী
আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী
‘এত আমদানির পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলে আর কবে আসবে?’