রাজশাহীর আমে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আরটিভি নিউজ  

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০১:৩১ পিএম


রাজশাহীর আমে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
রাজশাহীর আমের হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে এবার সরাসরি আমের রাজধানীতেই হাজির হলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার পুঠিয়ার বানেশ্বর আমের হাট পরিদর্শন করে তিনি রাজশাহীর আমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় দেশের আম রপ্তানি সম্প্রসারণে আধুনিক হিমাগার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল নয়টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীরা বানেশ্বর আমের হাটে পৌঁছে বিভিন্ন আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হাটে অবস্থানকালে তিনি ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাতসহ বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।

আম ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত রাজশাহীর আম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশদ জানতে চান। তার উপস্থিতিতে হাটজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক ব্যবসায়ী ও কৃষক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং রাজশাহীর আম নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত দোভাষীর মাধ্যমে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে কৃষকদের কথা শোনেন। হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করতে সহায়ক হবে। কৃষকেরাও মনে করছেন, বিদেশি কূটনীতিকের এমন আগ্রহ দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তার প্রথম রাজশাহী সফর। ২০২০ সালে একবার এই অঞ্চলে এসেছিলেন, তবে এবার তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই আমের মৌসুমে এসেছেন রাজশাহীর বিখ্যাত আমের স্বাদ উপভোগ করতে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত। আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখার এবং উপভোগ করার অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। সবচেয়ে তাজা, সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং সেরা পণ্য সেখানেই পাওয়া যায়। রাজশাহীর আমও ঠিক তেমন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করেন। তবে আমরা বেশির ভাগ সময় হিমায়িত আম পাই এবং তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও শেক তৈরি করি। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া যায়, কিন্তু এখানকার মতো গাছপাকা এত তাজা আম পাওয়া সেখানে সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশের আমের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তার মতে, দেশের আম রপ্তানি আরও বাড়াতে আধুনিক কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরও উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা প্রয়োজন। হিমায়িত আম আন্তর্জাতিক বাজারে সারা বছর সরবরাহ করা সম্ভব। তাই আমের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি বাড়াতে হিমাগার অবকাঠামোর উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় এই আমের বাজার পরিদর্শন শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে যান। দুই দিনের এই সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার(১৭ জুন) তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শনে যাবেন। সেদিন বিকেলেই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission