সারাদেশে বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সাভারে তিনজন, মানিকগঞ্জে দুইজন, নরসিংদীতে তিনজন, নেত্রকোনা, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন কৃষক।
রোববার (২১ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত তীব্র ঝড়-বৃষ্টির সময় এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
সারাদেশ থেকে আরটিভি প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
সাভার
সাভারে সবজি ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে বনগাঁ ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইমরান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে একজন কুটি ব্যাপারী (৭০)। অপর দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বনগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য কামরুন্নাহার বলেন, কুটি ব্যাপারী দুই কৃষককে নিয়ে সবজি ক্ষেত থেকে সবজি তুলছিলেন। বিকেলে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তিনজনই মারা যান।
জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে মুসা ফকির (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের উত্তর চর বওলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুসা ফকির ঐ এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান বৃদ্ধ মুসা ফকির। ঘাস কাটার সময় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে আহত মুসা ফকিরকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তাই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নরসিংদী
নরসিংদীর মনোহরদীতে অজু করার সময় বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরও এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। রবিবার মাগরিবের নামাজের সময় উপজেলার পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে মৃত শিক্ষার্থীরা হলো- জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে। তারা সবাই ওই মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করত।
শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ বলেন, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চারজনকে আনা হলে আমরা তিনজনে মৃত অবস্থায় পাই এবং একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নেত্রকোণা
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বড়গাও গ্রামে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বড়গাও গ্রামের মৃত আব্দুর রাশিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বৃষ্টির সময় মাঠ থেকে গরু আনতে যান জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী রেনু বেগম বলেন, ‘আমি মাঠে গরু আনতে গিয়ে দেখি জাহাঙ্গীর আলম মাটিতে পড়ে আছেন। তাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার বলেন, খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ
সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিকলী উপজেলায় হাওরে বজ্রপাতে এক নৌকার মাঝির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম বাবুল সরকার (৪৫)। সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবুল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি স্টিলবডি নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাবুল সরকারসহ কয়েকজন যাত্রী স্টিলবডি নৌকাযোগে আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকায় থাকা অন্যান্য যাত্রীরা পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন। তবে নৌকা চালানোর দায়িত্বে থাকায় বাবুল সরকার নৌকার ওপরেই অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে নৌকার গতিবিধিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে অন্য যাত্রীরা ওপরে উঠে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি মারা গেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন বিকেলে কবির ও শহিদুল মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামাল ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
আরটিভি/এমএম




