রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এখন কত, জানালেন অর্থমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩০ পিএম


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এখন কত, জানালেন অর্থমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এসময় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্যও জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।  

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত সিআইবি ডাটাবেইজে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এর প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত তথ্যে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমিয়ে আনার আবশ্যকতা রয়েছে, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

আরও পড়ুন

মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতের শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমিয়ে আনার নিমিত্ত ব্যাংকসমূহের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এরপর বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বার্ষিক আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯ বাস্তবায়ন, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনাপূর্বক হালনাগাদকরণ, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা প্রদান সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, একজন ঋণগ্রহীতা কর্তৃক সমগ্র ব্যাংকিং খাত হতে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য গৃহীতব্য ব্যবস্থাসমূহ কিছু কিছু অন্যান্য খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্যেও আরোপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তকরণ, খেলাপি ঋণগ্রহীতাগণ যাতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বোপরি, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission