২৩৯ কারখানার ছাদে উৎপাদিত হচ্ছে ৬৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১১:১৭ পিএম


২৩৯ কারখানার ছাদে উৎপাদিত হচ্ছে ৬৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুতের (রুফটপ সোলার) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এটি দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে দেশে বর্তমানে ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪১৮ মেগাওয়াট উল্লেখ করা হলেও আইইইএফএ-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশের বড় ২৩৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ৬৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ক্ষুদ্রাকার স্থাপনাগুলো হিসেবে নিলে মোট সক্ষমতা ১,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

আইইইএফএ বলছে, গ্রিড বিদ্যুতের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুতের সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সৌরবিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা আমদানিকৃত ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।

প্রতিবেদনে 'ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্সেস'-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বা দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের উৎসের কাছেই ছোট ছোট সৌর প্যানেল বা সেচ পাম্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা দেশগুলোর জন্য লাভজনক হচ্ছে।

বাংলাদেশে কৃষিকাজে বর্তমানে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। আইইইএফএ-এর মতে, যদি মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ডিজেল পাম্পকে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সিস্টেমে রূপান্তর করা যায়, তবে বছরে ডিজেল আমদানিতে ব্যয় হওয়া প্রায় ২৪৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।

তবে এই খাতের প্রবৃদ্ধিতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক কিছু বাধা এখনো রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও আগে সৌর যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ছাড় ছিল, তবে সাম্প্রতিক কর পরিবর্তনের ফলে শিল্প খাতের রুফটপ সোলার প্রকল্পের কার্যকর করের হার ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম কর অন্তর্ভুক্ত। এতে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগকে ধীর করে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতার বরাত দিয়ে আইইইএফএ আরও জানিয়েছে, 'নেট মিটারিং' সিস্টেমের আওতায় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে, যা উদ্যোক্তাদের হতাশ করছে।

এদিকে, বিএনপি সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের কথা রয়েছে রুফটপ সোলার থেকে।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইইইএফএ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—স্থাপন খরচ কমাতে সৌর যন্ত্রাংশের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা, অনলাইনে আবেদন পর্যবেক্ষণ করে গ্রিড সংযোগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং সৌরবিদ্যুতের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য ব্যাটারি স্টোরেজ ও স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানো।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission