সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪৭ এএম


সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করেন। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে দ্বিতীয়বারের মতো মিলিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগত মেলবন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের (এএফসিপি)’ অবদান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। 

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে নতুন করে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই সর্বশেষ অনুদানের মধ্য দিয়ে গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে এএফসিপির অধীনে মোট ১৩টি প্রকল্পে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এএফসিপি তহবিলের আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক ‘মুসা খান মসজিদ’-এর ইসলামিক স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্যতম। 

এ ছাড়া পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারী বাজার, লালবাগ কেল্লার একাংশ সংরক্ষণ এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প এবং প্রাচীন ধাতব ঢালাইয়ের মতো বাংলাদেশের অমূল্য লোকশিল্প ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দলিলকরণেও এই তহবিল ব্যবহৃত হচ্ছে।

বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন ঐতিহাসিক পানাম সিটির সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ইউএস-বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন, যৌথ ইভেন্ট শো এবং কালচারাল আর্টিস্ট এক্সচেঞ্জ (সাংস্কৃতিক শিল্পী বিনিময়) কর্মসূচির সম্ভাব্যতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো দ্বিপক্ষীয় ‘সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি’-এর খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত করার তাগিদ দেওয়া হলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ও আইনি যাচাই সম্পন্ন হলেই এটি নিয়ে দ্রুত কাজ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী দেশটির সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আসন্ন ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অগ্রিম আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

বৈঠকে নজরুল সাহিত্যের অনুবাদ কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হলে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’ বিশ্বসাহিত্যের অনন্য সংগ্রহশালায় তারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে বিশেষভাবে আগ্রহী।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারোহা সোহরাওয়ার্দী, পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার স্কট ই. হার্টম্যান, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর তরিকুল ইসলাম নাহিন এবং প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট এম. বি. এম. সাদ বিন এলাহী। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং বিশেষ স্মারক উপহার দেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও মন্ত্রীকে একটি বিশেষ শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন। দুই দেশের এই সাংস্কৃতিক মৈত্রী আগামীতে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission