বাপেক্সকে শক্তিশালী করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আরটিভি নিউজ  

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৯ পিএম


বাপেক্সকে শক্তিশালী করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি খাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল ও জ্বালানির মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সকে শক্তিশালী করে দেশেই গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। আমাদের তেল-গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, কিন্তু আপৎকালীন সময়ের জন্য যে পরিমাণ মজুত রাখা প্রয়োজন, সে বিষয়ে আগের সরকারের কোনো নজর ছিল না। ফলে আগে মাত্র ৩০ দিনেরও কম সময়ের জ্বালানি মজুত আমাদের হাতে থাকত।

বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত তিন মাসে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে জ্বালানির এই মজুত এখন ৪৫ দিনের বেশি সময়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে এটিকে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমরা।

আরও পড়ুন

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের বাপেক্সকে কোনোভাবেই কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে বসিয়ে রেখে সম্পূর্ণভাবে বিদেশিদের হাতে সবকিছু ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার বাপেক্সকে সক্রিয় করে আবার নতুনভাবে গড়ে তুলছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় রিগ আমদানি করা হচ্ছে এবং তারা নিজেরাই এখন থেকে নতুন নতুন গ্যাসকূপ খনন করবে। নতুন গ্যাসকূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতেও নতুন করে অনুসন্ধান চালাবে বাপেক্স।

সাবেক সরকারের আমলের বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিদ্যুৎ খাতকে মূলত নিজেদের পকেট ভারী করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিগত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাত থেকে কমপক্ষে তিন লাখ কোটি টাকা হরিলুট হয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হলেও সাধারণ জনগণ তার কোনো সুফল পায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু জ্বালানি আমদানি করা নয়, বরং দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য বাপেক্সকে আরও কার্যকর ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ধাপে ধাপে জ্বালানি খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission