১৮ জুলাই: রাজপথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন মোড় নেয় আন্দোলন

আরটিভি নিউজ  

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩৭ এএম


১৮ জুলাই: রাজপথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন মোড় নেয় আন্দোলন
১৮ জুলাই: রাজপথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন মোড় নেয় আন্দোলন । ছবি: সংগৃহীত

রক্তাক্ত জুলাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ১৮ জুলাই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, সেদিন রাজপথে নেমে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অংশগ্রহণে নতুন গতি পায় আন্দোলন এবং সফল হয় শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি।

সেদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ২৯ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত তিন হাজার মানুষ। আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ নিহতদের হত্যার বিচার এবং বৈষম্যের অবসানের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ হওয়ার পর আন্দোলন অনেকটাই থমকে গেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন শক্তি হিসেবে রাজপথে নামেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, রংপুরে আবু সাঈদকে হত্যার পর রাজপথে নামা আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশের গুলির মুখেও তারা আন্দোলন থেকে সরে যাননি।

আরও পড়ুন

১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নেন। ভবনের ভেতর থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে শব্দবোমা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ভবনটি ঘিরে ফেললে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়।

একই সময়ে রামপুরা, নতুনবাজার ও প্রগতি সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরাইয়া বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এদিন বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে দেশের ৪৭ জেলার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থীও রাজপথে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার শেখ হাসিনা সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

সংঘর্ষে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, আজিমপুর, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমন্ডি, সাভার, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, মাদারীপুর ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৯ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত তিন হাজার মানুষ।

দুপুরে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সংলাপ নয়।

রাতে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার শেখ হাসিনা সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গুজব ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিনভর সংঘর্ষের পরও রাতে শনির আখড়া, কাজলা, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের আন্দোলনের পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং পরবর্তী কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সক্রিয় থাকলেও, ১৮ জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ শুরু হয়। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমদের মৃত্যুর প্রতিবাদে সেদিন রামপুরা, নতুনবাজার, প্রগতি সরণি, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। সেই প্রতিরোধই পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের গতি আরও ত্বরান্বিত করে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission