বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চাষাবাদে ফেরাতে সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে: কৃষিমন্ত্রী

বাসস

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১০:১২ পিএম


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চাষাবাদে ফেরাতে সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে: কৃষিমন্ত্
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ-ছবি: সংগৃহীত

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেয়া হবে, ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

মন্ত্রী শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষী ও খামারীদের মাঝে ধান বীজ ও উপকরণ বিতরণ এবং গবাদি পশুকে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

মন্ত্রী আরও বলেন, চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানি আসার আগেই কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পানির নিচে থাকায় চারার উপযোগিতা নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বীজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের হাতে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে এবং এখনই বীজ বোনার সুযোগ নেই, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত চারা ১৫ থেকে ২০ দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রোপণ করতে পারেন।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বন্যার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় খুরা রোগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের। তাই আজ থেকেই বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

পাশাপাশি বন্যার কারণে সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতেও সহায়তা বাড়ানো হবে হবে মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী বলেন, মাছ চাষেও কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য সারা দেশে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন এলাকার কাছেই এসব সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষক অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ছাড়াই ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন এবং বাজারে ভালো দাম পেলে বিক্রি করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেখানে সরকারি খাল দখল হয়েছে, সেগুলো দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রী বীজতলায় নিজ হাতে ধানবীজ বপন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানবীজ বিতরণ, মৎস্যচাষীদের মধ্যে পুকুর পুনর্বাসনের উপকরণ, খামারীদের মাঝে গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদী পশুকে এফএমডি ও পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission