কোথায় হবে কিম-ট্রাম্পের বৈঠক?

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ , ০৩:০১ পিএম


কোথায় হবে কিম-ট্রাম্পের বৈঠক?

কোরিয়ান উপদ্বীপে বেশ কয়েক মাস ধরেই শান্তির সুবাতাস বইছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করায় এশিয়ার এই অঞ্চলে একটা স্বস্তির ধারা বয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোরাঘুরি করতে খুব একটা পছন্দ করেন না। একই অবস্থা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনেরও।

তবে যেহেতু উভয় নেতা মিলিত হওয়ার বিষয়টা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তাই যদি তারা বৈঠকে বসেন, সেক্ষেত্রে নিচে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানের নাম দেয়া হলো—

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সিরিয়ালে ‘তিনটা বউ’ আর ‘কূটকচাল’ নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা
--------------------------------------------------------

পানমুনজম, অসামরিক এলাকা

দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিক গ্রাম পানমুনজম কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হতে পারে। পানমুনজমের দক্ষিণ কোরীয় অংশের পিস হাউজে এর আগে শীতকালীন অলিম্পিকে যোগ দেয়ার বিষয়ে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা বৈঠক করেছিলেন। চলতি মাসের শেষদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ও কিম জং-উনের মধ্যে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে সেটিও এই পিস হাউজে হতে পারে।

পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এর আগেও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও বিল ক্লিনটন যথাক্রমে ২০০০ ও ২০০৭ সালে আন্তঃকোরীয় সম্মেলনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

জেজু দ্বীপ, দক্ষিণ কোরিয়া

জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের গভর্নর কিম-ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কোরিয়ান উপদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। তাই অপেক্ষাকৃত ছোট এই দ্বীপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যতটা সহজ হবে সিউলের মতো বড় শহরে সেটি কঠিন।

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র

আরও একটি সম্ভাব্য স্থান হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন। কিন্তু কিম তার প্রথম আমেরিকা সফরে রাজি হবেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় আছে। এছাড়া এ ধরনের একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হলে সেটি হোয়াইট হাউজের জন্যও অস্বস্তিকর হবে। কেননা সেটাকে নিজেদের প্রোপাগান্ডা চালানোয় ব্যবহার করতে পারে উত্তর কোরিয়া।

এর আগে ২০০০ সালে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ এক সামরিক কর্মকর্তা মার্শাল জো মিওঙ-রক ওয়াশিংটন গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সামরিক পোশাকে বৈঠক করেছিলেন। যা হোয়াইট হাউজের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বেইজিং, চীন

উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন। তাই চীনের রাজধানী বেইজিং কিম-ট্রাম্পের আলোচনার সম্ভাব্য আরও একটি স্থান। এদিকে কোনো মিটিং হলে সেখানে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। তবে তারা ওই বৈঠক আয়োজন করবে কিনা সেটা জানা যায়নি।

জেনেভা, সুইজারল্যান্ড

নিরপেক্ষ শহর হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভা এর আগে বিরোধী দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করেছে। যেমন ১৯৮৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভের মধ্যে ওই বৈঠক হোস্ট করে জেনেভা। আর কিম যেহেতু সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন তাই তিনি দেশটির সঙ্গে খুব ভালোভাবেই পরিচিত।

মস্কো, রাশিয়া

চীনের মতো রাশিয়াও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের অন্যতম একটি গন্তব্য। উত্তর কোরিয়ার নেতা হিসেবে কিম এখনও রাশিয়া যাননি। এর আগে নাৎসি জার্মানি পতনের ৭০তম বার্ষিকী উদযাপনে ২০১৫ সালে মস্কোয় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল কিমের। যদিও পরে তিনি ওই সফর বাতিল করেন।

স্টকহোম, সুইডেন

সুইডেন বহু আগে থেকেই উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে। তাই সুইডেনও কিম-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হতে পারে। এর আগে গেলো মাসে খবর বের হয় যে, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো খুব শিগগিরই সুইডেন সফর করবেন। যা এই ধারণাকে উসকে দেয় যে, সুইডেনই হতে পারে কিম-ট্রাম্পের বৈঠক।

উলানবাটর, মঙ্গোলিয়া

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত থাকা মঙ্গোলিয়া সাম্প্রতিক সময়ে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে দেশটির। কিম-ট্রাম্পের বৈঠকের খবর বের হওয়ার পর মঙ্গোলিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় উলানবাটারে ওই বৈঠকের ব্যাপারে উভয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানান।

আরও পড়ুন :

এ/পি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission