মাভাবিপ্রবির ছাত্রী হলে তল্লাশিতে পুরুষ শিক্ষক, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:০৪ পিএম


মাভাবিপ্রবির ছাত্রী হলে তল্লাশিতে পুরুষ শিক্ষক থাকায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

টাংগাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ফজিলাতুন্নেছা জোহা ছাত্রী আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়েছে হল প্রশাসন। এ সময় শিক্ষার্থীদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এতে ইন্ডাকশান, রাইসকুকার, হিটার ইত্যাদি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করে হলের অফিস কক্ষে নিয়ে আসা হয়।

এ ছাড়াও বিনা নোটিশে এই তল্লাশিতে পুরুষ হাউস টিউটরের উপস্থিতি নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে ফজিলাতুন্নেছা জোহা হলের ৮ম, ৯ম ও ১০ম তলায় তল্লাশি চালায় হল প্রশাসন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. চাঁদ সুলতানা খাতুন, হাউজ টিউটর হাফিজা আক্তার মীম। পাশাপাশি পুরুষ হাউজ টিউটর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মো. আবুল হোসেন।

এভাবে বিনা নোটিশে পুরুষ হাউজ টিউটরের উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হলের খাবারের মান খুবই খারাপ, গ্যাস সংযোগ নেই, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক খুবই বাজে।

ফজিলাতুন্নেছা জোহা হলের অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, এইভাবে বিনা নোটিশে বা বিনা অনুমতিতে ছেলে মানুষ নিয়ে আসা উনাদের একদমই ঠিক হয়নি। অনেকেই সুন্নাতি পর্দা করে, তাদের পর্দার কি মান থাকলো? আর একজন হাউজ টিউটর ম্যামের কাছ থেকে এমন আচরণও আশা করা যায় না। এর আগে কখনও কোনো ভালো মন্দ খোঁজ-খবরের জন্য উনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। প্রথমবার এসেই এমন আচরণ করলেন।

হলের একজন অসুস্থ শিক্ষার্থী তার ভোগান্তির বিষয়টি সামনে এনে বলেন, আমরা রুমের সবাই রুমে বিশ্রামরত ছিলাম। হঠাৎ দরজায় জোরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। দরজা খুলে দেখি প্রভোস্ট, হাউস টিউটর স্যার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও আনসার সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তখন অগোছালো অবস্থায় ছিলাম। প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও পাইনি। তারা সরাসরি রুমে ঢুকে এসে খাটের নিচ থেকে একটি কুকার নিয়ে চলে যান। যদিও সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল না এবং মাল্টিপ্লাগও সংযুক্ত ছিল না।

হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পুরুষ হাউজ টিউটরের উপস্থিতির কারণে আমরা বেশ বিব্রত বোধ করেছি। মেয়েদের হলের হাউস টিউটর কেন একজন পুরুষ হবেন? আর হলেও তিনি কেন এভাবে বিনা নোটিশে আসবেন?

অভিযোগের বিষয়ে ফজিলাতুন্নেছা জোহা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. চাঁদ সুলতানা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আমরা এই তল্লাশির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত হিটার থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যার ফলে ছাত্রীদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও সকল কক্ষের বারান্দায় কাপড় শুকানোর হুক লাগানোর পরেও ইমার্জেন্সি এক্সিট সিঁড়ির সামনে কিছু শিক্ষার্থীরা রশি টেনে কাপড় শুকাতে দেয়। যার ফলে সিঁড়ি থেকে উঠানামা করা এবং সিঁড়ি পরিস্কার করিয়ে নিতে সমস্যা হয়। এরপর তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে ইন্ডাকশান, রাইসকুকার, হিটার অফিস কক্ষে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সেটা শুধু মেয়েদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে।

বিনা নোটিশে পুরুষ হাউজ টিউটরের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিনা নোটিশে না গেলে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই সচেতন হয়ে সরঞ্জাম লুকিয়ে ফেলত। আর পুরুষ হাউস টিউটর প্রথমে দশতলা অবধি গিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর আনসাররা প্রতি ফ্লোরের শিক্ষার্থীদের জানান পুরুষ হাউস টিউটরের ফ্লোরে প্রবেশ সম্পর্কে। 

তিনি আরও বলেন, আমি যেহেতু নতুন দায়িত্ব নিয়েছি অনেক বিষয় সম্পর্কে আমি অবগত নই। উল্লেখিত সমস্যাগুলা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি সমাধান চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে হাউজ টিউটর মো. আবুল হোসেন বলেন, আমরা প্রবেশের আগে সাইরেন বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছিলাম। আমি শিক্ষার্থীদের রুমে প্রবেশ করিনি, বাইরে করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর ম্যামরা রুমে প্রবেশ করে তল্লাশি করেছেন। আমাকে অফিস আদেশ দেওয়া হলে আমি সেখানে উপস্থিত হই। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করব।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission