বন্যপ্রাণী গবেষণায় দেশসেরা জাবি, পেল জাতীয় পুরস্কার

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩৭ পিএম


বন্যপ্রাণী গবেষণায় দেশসেরা জাবি, পেল জাতীয় পুরস্কার
ছবি: সংগ্রহীত

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ অর্জন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বিভাগটি এই পুরস্কারে ভূষিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পক্ষে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মানসুরুল হক এ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার তুলে দেন। 

পুরস্কার হিসেবে ২২ ক্যারেটের ২ ভরি ওজনের স্বর্ণপদক, ১ লক্ষ টাকার চেক এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জন দেশের বন্যপ্রাণী নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা এবং সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগসহ এ বছর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে পাঁচ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। তারমধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (ব্যক্তি পর্যায়) ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী ফয়সাল বীন আজাদ (আদনান আজাদ)।

আরও পড়ুন

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (প্রতিষ্ঠান/সংগঠন পর্যায়) ক্যাটাগরিতে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম), বন্যপ্রাণী বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা (ব্যক্তি পর্যায়) ক্যাটাগরিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদা বেগম এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী/ইউনিট/বিভাগ পর্যায় ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট)।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।

ইকোসিস্টেম রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে স্থানীয় ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকা গাছ, যেগুলোকে আমরা ‘মাদার ট্রি’ বলি, সেগুলো যেন রক্ষা পায়, কেটে ফেলা না হয়, এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ এখানে বন বিভাগের বড় কর্মকর্তারা আছেন, আমি আশা করব তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও যতটা সম্ভব কঠোর অবস্থান নিতে আমরা চেষ্টা করছি। বহুদিনের অভ্যাসের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ, এটি মানুষকে বুঝিয়ে করাতে হবে। তাই আমি বলেছিলাম, এই বিষয়টি সমাধান করতে প্রত্যেক মানুষকে যার যতটুকু সম্ভব, যেই পরিবেশে সম্ভব, সেভাবেই পশুপাখি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের নদী বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি নদীগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা- কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক- এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

প্রসঙ্গত, এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ ও ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম প্রমুখ।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission