ইবিতে ৭ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে কোটি টাকার প্রিন্টিং মেশিন

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ 

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০১:০৯ পিএম


ইবিতে ৭ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে কোটি টাকার প্রিন্টিং মেশিন
ইবিতে ৭ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার প্রিন্টিং মেশিন, বাইরে ছাপাতে বাড়ছে ব্যয় । ছবি: সংগৃহীত

প্রায় সাত বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কোটি টাকার প্রিন্টিং প্রেসের মেশিন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছাপার কাজ বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। এতে প্রতিবছর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি গোপনীয় নথির নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকলেও সেখানে কর্মরত তিন কর্মকর্তা ও দুই কর্মচারী নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন প্রিন্টিং মেশিন ও কাগজ কাটার মেশিন কেনার প্রকল্প বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিসের সাময়িক সনদ, নম্বরপত্র, টেবুলেশন শিট, পরীক্ষার খাতা, শিক্ষার্থীদের টাকা জমার রসিদ, সনদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার, ডায়েরি, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, পরিবহন দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক শাখার ছাপার কাজ এই প্রিন্টিং প্রেসের আওতায় পড়ে। মেশিন অচল থাকায় এসব কাজ এখন বাইরের ছাপাখানার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রিন্টিং মেশিন দেয়। ২০০৫ সালের বন্যায় প্রিন্টিং প্রেসে পানি ঢুকে মেশিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায়, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়, মেশিনটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে নতুন মেশিন কেনার উদ্যোগ চললেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্তমান প্রিন্টিং প্রেসের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মফিজুল ইসলাম আরটিভিকে বলেন, নতুন মেশিন কেনার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মেশিনের মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাপার কাজ বাইরে থেকে করাতে হয়। এতে বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

আরও পড়ুন

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. নওয়াব আলী আরটিভিকে জানান, প্রথমে ৫৪ লাখ টাকার বাজেট থাকলেও তিন দফা দরপত্র আহ্বান করেও মেশিন কেনা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ সমন্বয় করে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নতুন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি ইউজিসির সুপারিশ পেয়েছে এবং বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের একটি অনলাইন সভা হয়েছে। তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে।

এদিকে প্রেস প্রশাসকের মতে, পুরোনো মেশিনটি মেরামত করলে তা আবারও ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব। অন্যদিকে প্রকৌশল দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন মেশিন কেনা হলে পুরোনোটি মেরামত করে উভয় মেশিন চালু রাখা যাবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপার কাজের সক্ষমতা আরও বাড়বে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission