মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তার বন্ধু ও রুমমেট মো. রিহাম পারভেজ আকাশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সবকিছু ঘটে যায় বলে জানান তিনি।
আকাশ জানান, সেদিন রাত আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে মনির ও ওই একই মেসে থাকা তার বন্ধু ফাহিম ও মিনহাজুল মেসে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফ্রেশ হওয়ার পর মনির বারান্দায় গিয়ে আড্ডা দিতে ডাকেন তাকে। কিছুক্ষণ পর ফাহিম ও মিনহাজুলও সেখানে যোগ দেন। চারজন স্বাভাবিকভাবেই গল্প করছিলেন এবং রাত ১১টা ২২ মিনিট পর্যন্ত তাদের আড্ডার একটি ভয়েস রেকর্ডও রয়েছে।
একপর্যায়ে মনির হঠাৎ চুপ হয়ে যান। অন্ধকার থাকায় প্রথমে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। দুই-তিন সেকেন্ড পর তারা বুঝতে পারেন, মনির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, মনিরের ডান হাত ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক মেইন লাইনে স্পর্শ করেছিল।
তিনি বলেন, আমরা দ্রুত তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। মিনহাজুল স্ট্যাম্প (কাঠের টুকরা) আনতে রুমে যায়। এর মধ্যেই দেখি মনিরের হাত ও দেয়ালের সংস্পর্শস্থলে বিদ্যুতের স্পার্ক হচ্ছিল। এক-দুই সেকেন্ড পরই নীলাভ-সাদা রঙের তীব্র আলো ও বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই মনির নিচে পড়ে যায়। পুরো ঘটনাটি প্রায় পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে।
এরপর তারা দ্রুত নিচে নেমে মনিরকে খুঁজতে থাকেন। মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে তাকে পাশের পুকুরে সম্পূর্ণ ডুবে থাকতে দেখা যায়। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। তখন তার কোনো সাড়া ছিল না। উদ্ধার করার সময় কান দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় পাশের বাড়ির একটি অটোরিকশায় করে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আকাশ আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক প্রথমে কোনো পালস পাননি। পরে ইসিজি পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত থেকে সিসিইউতে পুনরায় ইসিজি করালে সেখানেও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই রাতে টাঙ্গাইলের সন্তোষ এলাকায় ভাড়া বাসার তৃতীয় তলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পুকুরে পড়ে গুরুতর আহত হন মনির। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা দায়ীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
আরটিভি/এসআর



